গুম-খুনের মামলা : চলছে সাবেক সেনাপ্রধানের তৃতীয় দিনের জেরা
ছবি: সংগৃহীত
০১:১৯ পিএম | ০১ মার্চ, ২০২৬
আওয়ামী লীগের শাসনামলে সংঘটিত শতাধিক গুম-খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দেওয়ার পর তৃতীয় দিনের মতো সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়ার জেরা চলছে।
রোববার (১ মার্চ) বেলা পৌনে ১২টায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ জেরা শুরু হয়। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
এ মামলার একমাত্র আসামি মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের পক্ষে জেরা পরিচালনা করছেন আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো। সঙ্গে রয়েছেন আইনজীবী নাজনীন নাহার, আবুল হাসানসহ অন্যরা।
প্রসিকিউশনের পক্ষে রয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর শাইখ মাহদী, মঈনুল করিম ও তানভীর হাসান জোহা।
গত ২৩ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় দিনের জেরায় সাবেক সেনাপ্রধানকে বিভিন্ন প্রশ্নের মুখে ফেলেন আসামিপক্ষের এই আইনজীবী। প্রথম দিন তথা ১৮ ফেব্রুয়ারিও তিনি জেরা করেন।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়ার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। জবানবন্দিতে তিনি জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন। সেনাবাহিনী ও র্যাবের কর্মকাণ্ড এবং ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর সংশ্লিষ্টতা নিয়েও তিনি ট্রাইব্যুনালে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন।
এদিকে, আজ সকালে কারাগার থেকে জিয়াউল আহসানকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। তার উপস্থিতিতেই জেরা কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
এর আগে, ১৪ জানুয়ারি জিয়াউলের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। এ মামলায় সুনির্দিষ্ট তিনটি অভিযোগ আনা হয়। প্রথমটি হলো- ২০১১ সালের ১১ জুলাই রাতে গাজীপুর সদর থানার পুবাইলে সড়কের পাশে জিয়াউলের সরাসরি উপস্থিতিতে সজলসহ আরও তিনজনকে হত্যা। দ্বিতীয় অভিযোগে অপরাধের সময়কাল হলো ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত। এ সময়টায় বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের চরদুয়ানী খালঘেঁষা বলেশ্বর নদীর মোহনায় নজরুল, মল্লিকসহ ৫০ জনকে হত্যা। তৃতীয় অভিযোগেও ৫০ জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
টিকে/