© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

বিশ্ববাজারে বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম, ব্যারেলপ্রতি পৌঁছাতে পারে ১০০ ডলারে!

শেয়ার করুন:
বিশ্ববাজারে বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম, ব্যারেলপ্রতি পৌঁছাতে পারে ১০০ ডলারে!

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:১৬ পিএম | ০১ মার্চ, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। রোববার (১ মার্চ) ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে ৮০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন তেল ব্যবসায়ীরা। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় তেলের দাম ১০০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে।

জ্বালানি ও পরিশোধন বিষয়ক প্রতিষ্ঠান আইসিআইএসেরর পরিচালক অজয় পারমার বলেন, সামরিক হামলা তেলের দামের ওপর প্রভাব ফেললেও সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা। কারণ, এই প্রণালী বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বাণিজ্য সূত্র জানিয়েছে, তেহরান জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচলের বিরুদ্ধে সতর্ক করার পর বেশিরভাগ ট্যাঙ্কার মালিক, তেল কোম্পানি ও ট্রেডিং হাউস হরমুজ প্রণালী দিয়ে অপরিশোধিত তেল, জ্বালানি ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহন স্থগিত করেছে। বিশ্বে সরবরাহ হওয়া মোট তেলের ২০ শতাংশেরও বেশি এই প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হয়।

অজয় পারমার বলেন, সপ্তাহান্তের পর তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। আর যদি হরমুজ প্রণালীতে দীর্ঘ সময়ের জন্য বিঘ্ন ঘটে, তাহলে দাম এই সীমাও ছাড়িয়ে যেতে পারে।

আরবিসির বিশ্লেষক হেলিমা ক্রফট বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের নেতারা ওয়াশিংটনকে সতর্ক করেছেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের বেশি হতে পারে। বার্কলেসের বিশ্লেষকরাও একই ধরনের পূর্বাভাস দিয়েছেন।

এদিকে তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ওপেক প্লাস এপ্রিল থেকে প্রতিদিন ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন বাড়াতে সম্মত হয়েছে। তবে এটি বৈশ্বিক চাহিদার মাত্র শূন্য দশমিক ২ শতাংশেরও কম।

রিস্টাড এনার্জির জ্বালানি অর্থনীতিবিদ জর্জ লিওন বলেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে গেলে বিকল্প পাইপলাইন ব্যবহার করা হলেও প্রতিদিন ৮ লাখ থেকে ১০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে।

রিস্টাডের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বাণিজ্য স্বাভাবিকভাবে শুরু হলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি আরও ২০ ডলার বেড়ে প্রায় ৯২ ডলারে পৌঁছাতে পারে। ইরান সংকটের কারণে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সরকার ও তেল পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা ও নতুন শিপিং রুট খুঁজে দেখছে এবং তেলের মজুত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে।

সূত্র-রয়টার্স

আরআই/টিএ

মন্তব্য করুন