© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি / বিপ্লবের সৈনিক থেকে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের শীর্ষে

শেয়ার করুন:
বিপ্লবের সৈনিক থেকে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের শীর্ষে

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১০:১৩ পিএম | ০১ মার্চ, ২০২৬
ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদ-এর এক ধর্মীয় পরিবারে ১৯৩৯ সালের ১৯ এপ্রিল জন্ম নেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। আট ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। বাবা সৈয়দ জওয়াদ খামেনি ছিলেন স্থানীয়ভাবে সুপরিচিত শিয়া পণ্ডিত। মা খাদিজে মির্দামাদীর কাছেই ছোটবেলায় কোরআন তেলাওয়াত ও ইসলামের প্রাথমিক শিক্ষা নেন তিনি। পরবর্তী জীবনে খামেনি বহুবার বলেছেন, তার চরিত্র গঠনে মায়ের প্রভাব ছিল গভীর।

শৈশব কেটেছে অভাবের মধ্যে। স্মৃতিকথায় তিনি উল্লেখ করেছেন, অনেক সময় ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমাতে হতো। মলিন পোশাক নিয়ে সহপাঠীদের কটাক্ষও সহ্য করতে হয়েছে। ছোটবেলায় চোখে কম দেখতেন। দুর্বল দৃষ্টিশক্তির কারণে তাকে অলস ও দুর্বল ছাত্র ভাবা হতো। পরে চশমা ব্যবহারের পর পড়াশোনায় তার মেধা প্রকাশ পায় এবং তিনি দ্রুত সবার নজরে আসেন।

প্রাথমিক শিক্ষার পর তাকে পাঠানো হয় শিয়া মুসলিমদের পবিত্র নগরী কোম-এ। সেখানে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি সাহিত্যের প্রতি গভীর অনুরাগ তৈরি হয়। টলস্টয়, ভিক্টর হুগো কিংবা রোমা রোলার মতো লেখকদের বই পড়েছিলেন তিনি। তরুণ বয়সে ‘আমিন’ ছদ্মনামে কবিতাও লিখেছেন।

১৯৫৫ সালে কোমে এক সভায় তার দেখা হয় আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি-র সঙ্গে। সেই পরিচয়ই তার রাজনৈতিক জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। খোমেনির নেতৃত্বে গড়ে ওঠা আন্দোলনে যুক্ত হন তিনি। ইরানের তৎকালীন শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভি-র বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নিয়ে একাধিকবার গ্রেফতারও হন।

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর নতুন রাষ্ট্রকাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান খামেনি। বিপ্লবী পরিষদে কাজ করেন, উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী হন এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড গঠনে ভূমিকা রাখেন। ১৯৮১ সালে তেহরানের এক মসজিদে বোমা হামলায় গুরুতর আহত হন তিনি। সেই হামলায় তার ডান হাত পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়।

একই বছর ইরানের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ-আলী রাজাই নিহত হলে তার উত্তরসূরি হিসেবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন খামেনি। আট বছর দায়িত্ব পালনের সময় প্রধানমন্ত্রী মির হোসেইন মুসাভি-র সঙ্গে নীতিগত মতবিরোধ প্রকাশ্যে আসে।

১৯৮৯ সালে খোমেনির মৃত্যুর পর বিশেষজ্ঞ পরিষদ খামেনিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত করে। সংবিধানে সংশোধন এনে তার পথ সুগম করা হয়। এরপর তিন দশকের বেশি সময় তিনি দেশটির রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন। তার আমলে একাধিক প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব পালন করলেও চূড়ান্ত কর্তৃত্ব ছিল সর্বোচ্চ নেতার হাতেই।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পর শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় তার মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হয়। তার মৃত্যু ইরানের রাজনীতিতে এক নতুন অনিশ্চয়তার সূচনা করেছে।

এক দরিদ্র ছাত্র থেকে রাষ্ট্রক্ষমতার সর্বোচ্চ আসনে ওঠা আলী খামেনির জীবন ইরানের সমসাময়িক ইতিহাসের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে। তার সমর্থকদের কাছে তিনি বিপ্লবের ধারক। সমালোচকদের কাছে তিনি কঠোর ক্ষমতাকাঠামোর প্রতীক। তবে এতে সন্দেহ নেই, ইরানের রাজনৈতিক ইতিহাসে তার নাম দীর্ঘদিন আলোচিত থাকবে।

সূত্র: বিবিসি

মন্তব্য করুন