যশোরে বিএনপি নেতা আলমগীর হত্যাসহ ১৭ মামলার আসামি মনিরুল গ্রেপ্তার
ছবি: সংগৃহীত
১১:৩৭ পিএম | ০১ মার্চ, ২০২৬
যশোরে বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন হত্যাকাণ্ডে জড়িত মনিরুল ইসলাম নামে এক যুবককে ডিবি পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
রোববার (১১ মার্চ) সন্ধ্যায় আদালতে সোপর্দ করলে মনিরুল হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।
এর আগে শনিবার গভীর রাতে যশোর শহরতলীর ঝুমঝুমপুরের মাস্টারপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। মনিরুল শহরের ষষ্ঠীতলাপাড়ার আব্দুল খালেকের ছেলে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে আরও ১৭টি মামলা রয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির উপ-পরিদর্শক (এসআই) অলক কুমার দে জানান, মনিরুলের নাম হত্যাকাণ্ডের তদন্তে উঠে আসে। রোববার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে আলমগীর হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাকিব আহম্মেদ ইমন তার জবানবন্দি গ্রহণ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
তিনি আরও জানান, চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডে এখন পর্যন্ত নিহত আলমগীরের জামাই পরশ, সহযোগী সাগর, মূল শুটার ত্রিদিব ওরফে মিশুক, শাহীন কাজী এবং মনিরুলকে আটক করা হয়েছে। আটক পাঁচজনের মধ্যে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
জবানবন্দিতে উঠে এসেছে, আলমগীর হোসেনকে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন জামাই পরশ। তিনি ১৫ লাখ টাকায় হত্যাকারীদের ভাড়া করেছিলেন। হত্যার সময় মিশনে ছিল ১০ থেকে ১২ জন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় যশোর শহরের শংকরপুর এলাকায় আলমগীর হোসেনকে মোটরসাইকেল থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়। প্রথম মোটরসাইকেলে ছিলেন অমিত ও শুটার মিশুক। পরের মোটরসাইকেলে আরও দুজন এবং তৃতীয় মোটরসাইকেলে ছিল তিনজন।
সন্ধ্যা ছয়টার দিকে আলমগীর হোসেন যখন মোটরসাইকেল চালিয়ে শংকরপুর বটতলা হয়ে ইসহাক সড়কে আসেন, তখন তিনটি মোটরসাইকেল তাকে অনুসরণ করে। আলমগীর একটি দোকানে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকায় কিছু হামলাকারী বিরতি নেন। এরপর যখন তিনি সাবেক কাউন্সিলর নয়নের অফিসের কাছে পৌঁছান, চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে মিশুক গুলি করেন। এরপর চারজন দুটি মোটরসাইকেলে দ্রুত গোলপাতা মসজিদের দিকে চলে যান, আর শাহীন কাজীর মোটরসাইকেলটি বটতলার দিকে ঘুরে চলে যায়।
নিহত আলমগীর হোসেন ছিলেন যশোর শহরের শংকরপুর এলাকার ইসহাক সড়কের ইন্তাজ চৌধুরীর ছেলে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শামীমা বাদী হয়ে জামাই পরশ, সাগরসহ অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন।
এসএস/টিএ