ইশারা ও অস্পষ্ট ভাষায় ধর্ষণের কথা মাকে জানালেন প্রতিবন্ধী তরুণী
ছবি: সংগৃহীত
০৯:৫৯ পিএম | ২৮ জুলাই, ২০২৬
নওগাঁর মান্দা উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের চকরঘুনাথ মধ্যপাড়া গ্রামে এক শারীরিক প্রতিবন্ধী তরুণীকে (২৫) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে শাহীন (৩০) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে স্থানীয় কয়েক জন প্রভাবশালী ও মাতব্বর সালিশ-বৈঠকের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে আপস-মীমাংসার চেষ্টা করেছেন এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে আইনি ব্যবস্থা নিতে নিরুৎসাহিত করেছেন।
অভিযুক্ত শাহীন উপজেলার চকমানিক গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে। তিনি বিবাহিত এবং এক সন্তানের জনক।
ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে চকরঘুনাথ বাজারে মামার বাড়িতে বিয়ের দাওয়াত শেষে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন ওই তরুণী। পথে দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে পুকুরপাড় সংলগ্ন একটি নির্জন জঙ্গলে শাহীন তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ। শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় তিনি কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেননি। পরে বাড়ি ফিরে ইশারা ও ভাঙা-ভাঙা অস্পষ্ট কথায় মায়ের কাছে পুরো ঘটনার বিবরণ দেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর বিষয়টি স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি মো. কালাম, আহাম্মদ ও শিক্ষক আফজালসহ কয়েকজনকে জানানো হলে তারা থানায় মামলা না করার জন্য চাপ দেন। আইনি ব্যবস্থা নিলে উল্টো আর্থিক ক্ষতির ভয়ভীতিও দেখানো হয়। পরবর্তীতে বুধবার আহাম্মদের বাড়িতে বিকেলে সালিশ-বৈঠক বসিয়ে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
ভুক্তভোগীর মা রোজিনা আক্ষেপ করে বলেন, আমার মেয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধী, সে নিজে ঠিকমতো হাঁটতেও পারে না। আমি কোনো টাকা-পয়সা চাইনি। আমি চেয়েছিলাম অপরাধীর সুষ্ঠু বিচার হোক। কিন্তু মাতব্বররা ভয় দেখিয়ে ও প্রলোভন দিয়ে আমাদের থানায় যেতে দেয়নি। আমি এখন আইনের লোকজনের কাছে সুষ্ঠু বিচার চাই।
ভুক্তভোগীর দাদি মোছা. আতরজান বলেন, শনিবার মামার বাড়ি থেকে ফেরার সময় শাহীন আমার নাতনিকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে মাতব্বররা ৫০ হাজার টাকায় কাগজে সই করিয়ে আপসের চেষ্টা করে। কিন্তু এই আপসে আমরা রাজি ছিলাম না, আমরা সঠিক বিচার চাই।
স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, আমরা শুনেছি বিষয়টি গোপনে আপস করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধ সালিশে মীমাংসা করার চেষ্টা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।
অভিযুক্ত মো. শাহিনের বাড়িতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। তার স্ত্রী জানান, ঘটনার পর থেকেই স্বামী বাড়িতে নেই এবং মোবাইল ফোনটিও তার কাছে নেই ।
অন্যদিকে, সালিশ ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শিক্ষক আফজাল। তিনি বলেন, মেয়ের বাবা-মা আমাদের কাছে এসেছিলেন। তবে আমরা কোনো সালিশ বা টাকা লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত নই।
অনুরূপ বক্তব্য দেন অভিযুক্ত প্রভাবশালী মো. কালাম ও আহাম্মদ। তারা টাকা-পয়সা বা স্ট্যাম্পে সই নেওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, ভুক্তভোগী পরিবার আইনগত ব্যবস্থা নিলে তাদের কোনো আপত্তি নেই।
এ বিষয়ে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম জানান, আমার কাছে তো কোনো অভিযোগ নেই। আমি সাংবাদিকের নিউজ পেয়েই অফিসার পাঠাচ্ছি। যদি সত্যতা থাকে অবশ্যই ব্যবস্থা নিব।
এসএন