© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

দাবি জিয়াউলের আইনজীবীর / খালেদা জিয়াকে বাসা থেকে উচ্ছেদে পদক্ষেপ নেন সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল

শেয়ার করুন:
খালেদা জিয়াকে বাসা থেকে উচ্ছেদে পদক্ষেপ নেন সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১১:৫৬ পিএম | ০১ মার্চ, ২০২৬
ঢাকার সেনানিবাসের বাসা থেকে বেগম খালেদা জিয়াকে উচ্ছেদে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে দাবি করেছেন আমিনুল গণি টিটো।

রোববার (১ মার্চ) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ ইকবাল করিমকে জেরার সময় তিনি এ দাবি করেন। তবে মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের আইনজীবীর এমন প্রশ্ন প্রত্যাখ্যান করেন সাবেক এই সেনাপ্রধান।

আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে সংঘটিত শতাধিক গুম-খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জিয়াউলের বিরুদ্ধে প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন ইকবাল করিম।
তৃতীয় দিনের মতো তার জেরা সম্পন্ন হয়েছে।

জেরায় নারায়ণগঞ্জে চাঞ্চল্যকর সাত খুন মামলার তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন করেন আমিনুল গণি। জবাবে ইকবাল করিম বলেন, আমি জানি না যে, আমার সময়কালে জিয়াউল আহসান নারায়ণগঞ্জে চাঞ্চল্যকর সাত খুন মামলার তদন্ত করেছিলেন কিনা।

এ সময় সাবেক সেনাপ্রধানের উদ্দেশে আইনজীবী বলেন, এ মামলার তদন্ত নিয়ে জিয়াউল আহসানকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছেন আপনি। এতে অমান্য করায় আপনার সঙ্গে তার বৈরী সম্পর্ক তৈরি হয়। প্রতুত্তরে এটা সত্য নয় বলে জানান সাক্ষী।

আমিনুল গণির আরেক প্রশ্নে ইকবাল করিম বলেন, ডিজিএফআইয়ের সদর দপ্তরে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা 'র' এর কার্যালয় ছিল মর্মে আমি জবানবন্দিতে বলেছি। তবে আমি কোনো তদন্ত করতে পারিনি। কারণ ডিজিএফআই সেনাপ্রধানের নিয়ন্ত্রণের বাইরের একটি প্রতিষ্ঠান। এর সদর দপ্তর ঢাকা সেনানিবাসের অভ্যন্তরে অবস্থিত।

ডিজিএফআইয়ের ওপর সেনাপ্রধানের আংশিক প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। জিয়াউলের আইনজীবীর এমন প্রশ্নে হ্যাঁ সম্বোধন করেন তিনি।

এ পর্যায়ে আমিনুল গণি বলেন, আপনি কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল থাকতে বেগম খালেদা জিয়াকে উচ্ছেদে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ বা কার্যক্রম গ্রহণ করেছেন।

জবাবে ইকবাল করিম বলেন, ইহা সত্য নয় যে, আমি কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল থাকাকালীন বেগম জিয়াকে তার ঢাকা সেনানিবাসের বাসা থেকে উচ্ছেদের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব কার্যক্রম গ্রহণ করি। আমি সে সময় বিদেশে ছিলাম।

এ পর্যায়ে তার মহাখালীর ডিওএইচএস-এর বাসাটি অন্যায়ভাবে অন্যদের চেয়ে এক কাঠা বেশি সম্পত্তির ওপর স্থাপিত বলে জানতে চান আইনজীবী টিটো। জবাবে সত্য নয় বলেন সাক্ষী।
হাসিনা সরকারের আমলে আপনি পাওয়ার প্ল্যান্ট পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছিলেন; এমন প্রশ্নে ইকবাল করিম বলেন, আমি কোনো দায়িত্ব পাইনি।

টিটো বলেন, আপনি আমার মক্কেল জিয়াউল আহসানকে নিয়ে ফেসবুক অ্যাকাউন্টে মিথ্যা ও কুরুচিপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেছেন। এটা সত্য নয় বলে জানান সাবেক এই সেনাপ্রধান।

সেনাপ্রধান থাকার সময় থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত হাসিনার সরকারের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে আপনার সম্পত্তি বহুগুণ বৃদ্ধি করেছেন। এমন প্রশ্নে ইকবাল করিম বলেন, এটা সত্য নয় যে, আমি সুবিধা নিয়ে আমার সম্পত্তি বহুগুণ বৃদ্ধি করেছি।

নানান প্রশ্ন শেষে নিজের জেরা সম্পন্ন করেন আমিনুল গণি টিটো। আরেক আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরীও ইকবাল করিমকে জেরা করবেন। এজন্য আগামী ৩ মার্চ দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর শাইখ মাহদী, সুলতান মাহমুদ, সহিদুল ইসলাম সরদার, মঈনুল করিমসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।

টিজে/টীএ 

মন্তব্য করুন