আ.লীগ নেতা জোয়াহেরুল ইসলামকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন
ছবি: সংগৃহীত
১০:৪৬ পিএম | ০২ মার্চ, ২০২৬
টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) বর্তমান সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলামকে গার্ড অব অনার দিয়ে বাবা-মায়ের কবরের পাশে সমাহিত করা হয়েছে। সোমবার (০২ মার্চ) বিকালে জানাজা শেষে সখীপুর উপজেলার বেড়বাড়ী গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে দাফন করা হয়।
এর আগে দুপুর ১২টার দিকে টাঙ্গাইল জেলা কোর্ট চত্বরে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে লাশ নিয়ে যাওয়া হয় গ্রামের বাড়ি একই উপজেলার বেড়বাড়ীতে। সেখানে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। বিকাল ৩টার দিকে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। জানাজায় কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকীসহ জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী অংশ নেন।
গার্ড অব অনার অনুষ্ঠানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার তৌফিক ইসলাম। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামসুন্নাহার শিলা বলেন, ‘সখীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রনী ছুটিতে থাকায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মহোদয়ের নির্দেশনায় তৌফিক ইসলাম ওই অনুষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম।’
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন জোয়াহেরুল ইসলাম। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ভারতে পালিয়ে ছিলেন। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কলকাতার দমদম এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এক সপ্তাহের বেশি সময় চিকিৎসাধীন থাকার পর শেষ ছয় দিন লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘মাল্টি অর্গান ফেইলিওরের’ কারণে গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মৃত্যু হয়।
রবিবার (০১ মার্চ) রাত ৯টার দিকে যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে তার লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স বাংলাদেশে আসে। পরে গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ সূত্র জানা যায়, জোয়াহেরুল ইসলাম ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৮ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এর আগে ২০১৭ সালে তিনি টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং দ্বিতীয় মেয়াদেও একই পদে দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্রজীবনে তিনি টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। প্রবীণ এই আইনজীবী তৃণমূলের নেতাকর্মীদের কাছে তিনি ‘ভিপি জোয়াহের’ নামেই বেশি পরিচিত ছিলেন।
আইকে/টিএ