ইরানের ড্রোন হামলা ঠেকাতে ইউক্রেনের সহায়তা চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র: জেলেনস্কি
ছবি: সংগৃহীত
০২:৩৭ পিএম | ০৬ মার্চ, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ড্রোন হামলা ঠেকাতে ইউক্রেনের সহায়তা চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি একথা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ওয়াশিংটনের ওই অনুরোধের পর তিনি প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে ইউক্রেনের বিশেষজ্ঞদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।
সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড বলছে, রাশিয়ার চার বছরের সামরিক অভিযানের সময় ইউক্রেন স্বল্প খরচে কার্যকর বিভিন্ন ধরনের ড্রোন প্রতিরোধ প্রযুক্তি তৈরি করেছে। আকাশে উড়ে আসা হামলাকারী ড্রোনকে মাঝপথে ধ্বংস করতে সক্ষম এসব ড্রোন ইন্টারসেপ্টরকে কিয়েভ বিশ্বের সেরা প্রযুক্তিগুলোর একটি বলে দাবি করে থাকে।
গত মঙ্গলবার জেলেনস্কি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর কাছে একটি প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, তাদের কাছে থাকা কিছু আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের বিনিময়ে ইউক্রেন এসব ড্রোন প্রতিরোধ প্রযুক্তি দিতে পারে, যা ইরানের ড্রোন হামলা মোকাবিলায় আরও কার্যকর হতে পারে।
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জেলেনস্কি লিখেছেন, ‘মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে ‘শাহেদ’ ড্রোনের বিরুদ্ধে সুরক্ষায় নির্দিষ্ট সহায়তার জন্য আমরা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অনুরোধ পেয়েছি।’
তিনি যে ‘শাহেদ’ ড্রোনের কথা বলেছেন, তা ইরানের নকশায় তৈরি এবং রাশিয়াও ইউক্রেনের বিরুদ্ধে সেগুলো ব্যবহার করছে।
রাশিয়া থেকে উৎক্ষেপণ করা এসব ড্রোনের হামলার মুখে প্রায় প্রতিদিনই ইউক্রেনের বিভিন্ন শহর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আবাসিক এলাকা ও বেসামরিক অবকাঠামোর পাশাপাশি জ্বালানি স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে।
জেলেনস্কি বলেন, ‘আমি প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ এবং ইউক্রেনীয় বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছি, যাতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।’
তবে ওয়াশিংটনের এই সহায়তা চাওয়ার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেন যুদ্ধের শান্তি প্রচেষ্টায় বাধা সৃষ্টি করার অভিযোগ তুলেছেন জেলেনস্কির বিরুদ্ধে। রাজনৈতিক সংবাদমাধ্যম পলিটিকোকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘জেলেনস্কিকে এখন সক্রিয় হতে হবে এবং একটি সমঝোতা করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটা অকল্পনীয় যে তিনি বাধা হয়ে দাঁড়াবেন। আপনার হাতে তেমন কোনও শক্তি নেই। এখন তার হাতে আরও কম শক্তি আছে।’
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ক্ষমতায় এসে প্রথম দিনেই ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, এই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়েছে, কারণ ইউক্রেনের ওপর হামলা অব্যাহত রেখেছে রাশিয়া।
এসএন