© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

‘শাহেদ’ ড্রোন ধ্বংসে ইউক্রেনের ইন্টারসেপ্টর কিনতে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র

শেয়ার করুন:
‘শাহেদ’ ড্রোন ধ্বংসে ইউক্রেনের ইন্টারসেপ্টর কিনতে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:৫৮ এএম | ০৮ মার্চ, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধের জেরে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত চাপের মধ্যে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের তৈরি ইন্টারসেপ্টর কিংবা ‘শাহেদ-হান্টার’ কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলো।

বর্তমানে ইন্টারসেপ্টর প্রযুক্তির অন্যতম বড় উৎপাদক হয়ে ওঠা ইউক্রেন এই অস্ত্র যুক্তরাষ্ট্র ও তার উপসাগরীয় মিত্রদের কাছে বিক্রি করার প্রস্তাব দিয়েছে। বিনিময়ে তারা এমন উন্নত অস্ত্র পেতে চায়, যেগুলো তারা নিজ দেশে তৈরি করতে পারে না।

চার বছর আগে, রাশিয়া পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরু করলে ইউক্রেনের নিজস্ব অস্ত্রশিল্প খুবই দুর্বল ছিল। টিকে থাকার জন্য নতুন উদ্ভাবনে বাধ্য হয়ে দেশটি দ্রুত একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলে, যার বড় অংশই কম খরচের ড্রোন উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীল। এর মধ্যে কিছু ড্রোন বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে ইরানি নকশার শাহেদ ড্রোন প্রতিহত করার জন্য- যেগুলো এখন রাশিয়া শত শত সংখ্যায় ব্যবহার করছে।

সাধারণত একটি ড্রোন ধ্বংস করতে পশ্চিমা দেশগুলো যেসব আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে, তার একেকটির দাম লাখ লাখ ডলার। আকাশ প্রতিরক্ষার প্রথাগত নিয়ম বদলে দিয়েছে ইউক্রেনের এসব সস্তা ‘ইন্টারসেপ্টর ড্রোন’।

এই অবস্থায় প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি ঘোষণা দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো চাইলেই ইউক্রেন সাহায্য করবে। এই ইন্টারসেপ্টার ড্রোনের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্কাইফল জানিয়েছে, মাসে ৫০ হাজার পর্যন্ত ড্রোন তৈরি করতে পারে তারা এবং এর মধ্যে রফতানি করতে পারবে ৫-১০ হাজার।

ড্রোনগুলো শুধু তৈরিই নয়, চালানোও গুরুত্বপূর্ণ। ইউক্রেনের একমাত্র বিশেষ প্রশিক্ষিত পাইলটরা এ কাজে অভিজ্ঞ। তাই তিন সপ্তাহের প্রশিক্ষণ দানেও আগ্রহী স্কাইফল। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, মিসাইলের যুগে ছোট কিন্তু নিখুঁত এই ড্রোনগুলো গড়তে পারে কার্যকর প্রতিরোধ।

সম্প্রতি, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে ইরানি নকশার শাহেদ ড্রোন মোকাবিলায় সহায়তা চেয়েছে। এরপর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলদেমির জেলেনস্কি ইউক্রেনীয় সরঞ্জাম ও বিশেষজ্ঞদের মোতায়েনের নির্দেশ দেন, যদিও বিস্তারিত তথ্য গোপন রাখা হয়েছে।

২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর কিয়েভের জন্য অস্ত্র রফতানি নিষিদ্ধ করা হয়। কিন্তু এখন কম খরচের ইন্টারসেপ্টর ড্রোন নির্মাতা ইউক্রেনীয় কোম্পানিগুলো বলছে যে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছে।

ডিফেন্স এক্সপ্রেসের প্রধান সম্পাদক ওলেহ কাটকভ বলেন, অন্যান্য দেশও ইন্টারসেপ্টর ড্রোন তৈরি করতে পারে। কিন্তু যুদ্ধক্ষেত্রে পরীক্ষা করা এবং ব্যাপকভাবে উৎপাদন ব্যবস্থা বর্তমানে একমাত্র ইউক্রেনেরই আছে। 

এসকে/টিকে

মন্তব্য করুন