কোন ৬ আমলে মুমিন বান্দা নিরাপদে থাকতে পারেন?
ছবি: সংগৃহীত
১০:৫৩ এএম | ০৮ মার্চ, ২০২৬
চলছে ইবাদতের মৌসুম; নফসকে পরিস্কার করার মাধ্যমে রবের কাছে পৌঁছানোর মাস । মুমিন বান্দা এই মাসে বেশি বেশি আমল করে থাকেন সিয়াম সাধনার মাধ্যমে তাকওয়া পরিপূর্ণ করেন।
যদিও এই মাস অন্য সকল মাসের মতো নয় তবুও চলতে ফিরতে, নিরাপত্তা অবলম্বন করতে হাদিসে বর্ণিত কিছু দু'আ আছে- যেগুলো পাঠের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর নিরাপত্তায় থাকেন।
রমাদানে আমাদের দিনের শুরু হোক ছোট্ট ছোট্ট আমল দিয়ে। ছোট্ট ছোট্ট আমল পাঠ করার মাধ্যমে মুমিন বান্দা তাঁর অন্তরে প্রশান্তি খুঁজে পায় সারাদিন নিরাপত্তা। বুদ্ধিমান মুমিন ভালো কাজের সামিল থাকতে চায়, মিস করতে চায় না।
চলুন জেনেনেই সকালে যে দু'আ গুলো পাঠ করলে সারাদিন নিরাপদে থাকা যায়
১. আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা
سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِهِ
উচ্চারণ: সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি
অর্থ: আল্লাহ পবিত্র এবং সমস্ত প্রশংসা তাঁরই জন্য।
হাদিসে এসেছে; রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সকালে একশত বার ও সন্ধ্যায় একশত বার ‘সুবহা-নাল্লা-হি ওয়া বিহামদিহি’ পড়বে, কিয়ামতের দিন তার চেয়ে উৎকৃষ্ট কিছু কেউ নিয়ে আসতে পারবে না। তবে সে ব্যক্তি ছাড়া যে তার মত বলবে বা তার চেয়ে বেশি আমল করবে। (মুসলিম, হাদিস ২৬৯২)
২. কালেমার মাধ্যমে দু'আ
أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ
উচ্চারণ: আউজু বিকালিমা-তিল্লা-হিত তা-ম্মাতি মিন শাররি মা খালাক্বা।
অর্থ: আল্লাহর পরিপূর্ণ কালেমাসমূহের উসিলায় আমি তার নিকট তার সৃষ্টির ক্ষতি থেকে আশ্রয় চাই। তাহলে তোমার কোনো ক্ষতি হত না।
হাদিসে এসেছে; রাসুল (সা.) বলেছেন, কেউ সন্ধ্যার সময় এটি পড়লে কোনো কিছুই তার ক্ষতি করতে পারবে না। (মুসলিম, হাদিস : ২৭০৯)
৩. আয়াতুল কুরসি পড়া
اللَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ ۚ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ ۚ لَّهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ ۗ مَن ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِندَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ ۚ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ ۖ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِّنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ ۚ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ ۖ وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا ۚ وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ -
রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, তার জান্নাতে প্রবেশের পথে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো অন্তরায় থাকবে না।’ (শুআবুল ঈমান, হাদিস; ২৩৯৫; সুনানুল নাসায়ী, হাদিস; ৯৯২৮)
৪. আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের দোয়া
رَضِيتُ باللهِ رَبَّاً، وَبِالْإِسْلَامِ دِيناً، وَبِمُحَمَّدٍ نَبِيَّاً -
উচ্চারণ: ‘রাজিতু বিল্লাহি রব্বাওঁ ওয়াবিল ইসলামী দ্বিনাওঁ ওয়াবি মুহাম্মাদিন নাবিয়্যা।
অর্থ : আমি আল্লাহকে রব হিসেবে, ইসলামকে দ্বিন হিসেবে ও মুহাম্মাদ (সা.)-কে নবী হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট।
হাদিসে এসেছে; রাসুল (সা.) বলেছেন যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যা তিনবার নিম্নের দোয়া পাঠ করবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে সন্তুষ্ট করবেন। (তিরমিজি, হাদিস : ৩৩৮৯)
৫. সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার
যদি কেউ দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে সকাল-সন্ধ্যা সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার পড়ে এবং ওই দিনে বা রাতে ইন্তেকাল করে, তবে সে জান্নাতি হবে। (বুখারি : ৬৩০৬)
৬. জাহান্নাম থেকে মুক্তির দোয়া
اللَّهُمَّ أَجِرْنِي مِنَ النَّارِ-
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আজিরনি মিনান নার।
অর্থ : হে আল্লাহ! আমাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করুন।
হাদিসে এসেছে; রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি ফজর ও মাগরিবের পর সাতবার নিম্নের দোয়াটি পাঠ করে এবং ওই দিনে বা রাতে তার মৃত্যু হয়, তাহলে সে জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভ করবে। (আবু দাউদ, হাদিস : ৫০৭৯)
আমরা প্রতিদিন কত ব্যস্ততায় দিন শুরু করি, কিন্তু ক’বার ভেবে দেখি, এই দিনটি আল্লাহর জন্য কতটা নিবেদিত? একজন মুসলিমের প্রকৃত সৌভাগ্য হলো তার প্রতিটি কাজ ইবাদতে পরিণত হওয়া। দিনের শুরুতে সামান্য কিছু আমল আমাদের অন্তরকে সজাগ করে, নিয়তকে শুদ্ধ করে এবং জীবনকে অর্থবহ করে তোলে।
তাই আসুন, আমরা নিজেদেরকে ছোট্ট ছোট্ট আমল দিয়ে বদলাই, প্রতিটি সকালকে আল্লাহর স্মরণে রাঙাই। তিনি যেন আমাদেরকে সেই তাওফিক দান করেন এবং আমাদের জীবনের প্রতিটি দিনকে বরকতময় করে তোলেন। আমিন।
এমআই/টিকে