তেহরানে চলন্ত অ্যাম্বুলেন্সে আঘাত হানল ইসরাইলের ক্ষেপণাস্ত্র
ছবি: সংগৃহীত
১১:২৯ এএম | ০৮ মার্চ, ২০২৬
ইসরাইলের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে তেহরানে একটি অ্যাম্বুলেন্স ধ্বংস হয়েছে। হামলার পরই এটাতে আগুন ধরে যায়। ইরানের সেনাবাহিনীর বিশেষ শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সঙ্গে সম্পৃক্ত সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সি এ খবর জানিয়েছে।
ফার্স নিউজ এজেন্সি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আজ রোববার (৮ মার্চ) এক্স-এ এ ঘটনার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা গেছে, রাস্তায় একটি গাড়ি জ্বলছে এবং একটি জরুরি স্যুট পরিহিত ব্যক্তি আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন।
নাগরিক সাংবাদিকতা গ্রুপ মামলাকেত এক্স-এ জানিয়েছে, তেহরানের পূর্বাঞ্চলীয় তেহরানপার্স এলাকায় একটি গলির মধ্যদিয়ে যাওয়ার সময় একটি জোরালো বিস্ফোরণের কারণে হঠাৎ থেমে যায় অ্যাম্বুলেন্স।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে বোমা হামলা অব্যাহত রেখেছে। গত শনিবার (৭ মার্চ) রাজধানী তেহরানসহ দেশটির বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে।
এদিন প্রথমবারের মতো তারা তেহরানের তেল সংরক্ষণাগার, তেল পরিশোধনাগার ও পানি শোধনাগারে আঘাত করেছে। এতে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় বড় ধরনের আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি হুঁশিয়ারী দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে এর গুরুতর পরিণতি ভোগ করতে হবে। ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তা আলি লারিজানি বলেছেন, যুদ্ধ শুরু করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে এর মূল্য দিতে হবে। তিনি দাবি করেন, ওয়াশিংটন তাদের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরান যুদ্ধ বন্ধে যেকোনো ধরনের সমঝোতা প্রত্যাখ্যান করে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা আরও বাড়ানো এবং সেই সঙ্গে ইরানের সম্ভাব্য সব নেতাকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন।
শনিবার মিয়ামিতে ইরানি হামলায় নিহত মার্কিন সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, তিনি ইরানের সঙ্গে ‘কোনো আলোচনায় আগ্রহী নন। যুদ্ধ তখনই শেষ হতে পারে, যখন তেহরানের আর কার্যকর কোনো সেনাবাহিনী থাকবে না বা ক্ষমতায় কোনো নেতৃত্ব অবশিষ্ট থাকবে না।’
উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ- কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, ক্ষমা চাওয়া ও হামলা বন্ধের আশ্বাস দেয়ার পরও ইরান থেকে আরও কিছু হামলা হয়েছে।
সংঘাতের শুরু থেকেই উপসাগরীয় দেশগুলো হামলা চলছিল। তবে শনিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন যে, উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে হামলা চালানো না হলে আমাদের হামলা বন্ধ হবে। তেহরান এখন বলছে, উপসাগরীয় ঘাঁটিগুলো থেকে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা চালানোর মাধ্যমে ট্রাম্প সেই উদ্যোগ নষ্ট করেছেন।
এমআর/টিকে