৪০ বছর আগে নিখোঁজ সেনার দেহাবশেষ খুঁজতে লেবাননে ইসরায়েলের অভিযান, নিহত ৪১
ছবি: সংগৃহীত
১১:৪১ এএম | ০৮ মার্চ, ২০২৬
৪০ বছর আগে নিখোঁজ হওয়া এক সেনার দেহাবশেষ উদ্ধারে লেবাননের নবী চিত গ্রামে বড় ধরনের কমান্ডো অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েল। তবে এই অভিযানে কোনো লক্ষ্য পূরণ না হলেও ইসরায়েলি বিমান ও স্থল হামলায় অন্তত ৪১ জন নিহত হয়েছেন।
নিখোঁজ ইসরায়েলি পাইলট রন আরাদের দেহাবশেষের সন্ধানে একটি কবরে খনন চালায় ইসরায়েলি বিশেষ বাহিনী। স্থানীয়রা জানান, কবর খুঁড়ে কিছুই পাওয়া যায়নি।
এই অভিযানকে কেন্দ্র করে হিজবুল্লাহ যোদ্ধা ও লেবাননের সেনাবাহিনীর সঙ্গে ইসরায়েলি বাহিনীর প্রচণ্ড সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে এবং কমান্ডোদের সরিয়ে নিতে ইসরায়েল ওই এলাকায় প্রায় ৪০টি বিমান হামলা চালায়, যাতে ধ্বংস হয়ে যায় অসংখ্য ঘরবাড়ি। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের নারী ও শিশুসহ তিন লেবানিজ সেনাও রয়েছেন।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও লেবাননের সামরিক বাহিনীর দাবি, ইসরায়েলি সৈন্যরা লেবাননের সামরিক পোশাক পরে এবং হিজবুল্লাহর স্বাস্থ্য সংস্থার অ্যাম্বুল্যান্স ব্যবহার করে গ্রামে প্রবেশ করেছিল।
তবে এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।
অভিযানে কোনো ইসরায়েলি সৈন্য আহত না হলেও দেশটির ভেতরেই এটি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। নিখোঁজ পাইলট রন আরাদের স্ত্রী তামি ফেসবুকে লিখেছেন, মৃতদেহ উদ্ধারের চেয়ে জীবিত সৈনিকদের জীবনের মূল্য অনেক বেশি। আমরা চাই না আমাদের জন্য আর কোনো সৈন্যের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ুক।
গত সোমবার (২ মার্চ) থেকে লেবাননজুড়ে ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ২৯৪ ছাড়িয়েছে। নবী চিত গ্রামের বাসিন্দারা ধ্বংসস্তূপের মাঝে দাঁড়িয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, নিহতদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক, যাদের সাথে হিজবুল্লাহর কোনো সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল না।
সূত্র : বিবিসি
এসকে/টিকে