© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

যুদ্ধ হচ্ছে ইরানে, কিন্তু কঠিন বিপদে পাকিস্তান

শেয়ার করুন:
যুদ্ধ হচ্ছে ইরানে, কিন্তু কঠিন বিপদে পাকিস্তান

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০২:৩৮ পিএম | ০৮ মার্চ, ২০২৬
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েলের হামলাকে ঘিরে শুরু হওয়া সংঘাত পাকিস্তানকে একটি জটিল কূটনৈতিক অবস্থার সামনে দাঁড় করিয়েছে। একদিকে প্রতিবেশী ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত ও সম্পর্ক, অন্যদিকে সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি। এই দুই বাস্তবতার মাঝে ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন ইসলামাবাদের বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

পাকিস্তানের সঙ্গে ইরানের প্রায় ৯০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে পাকিস্তানের লাখ লাখ শ্রমিক কাজ করেন। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বাড়লে তার প্রভাব সরাসরি পাকিস্তানের ওপর পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গত বছর সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তান একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি করে। ওই চুক্তিতে বলা হয়েছে, এক দেশের ওপর হামলাকে দুই দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এই বাস্তবতায় ইরান যদি সৌদি আরবে হামলা বাড়ায়, তাহলে পাকিস্তানের অবস্থান কী হবে তা নিয়ে দেশটিতে আলোচনা বাড়ছে।

এখন পর্যন্ত পাকিস্তান মূলত কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই সীমিত রয়েছে। ইসলামাবাদ ইরান, সৌদি আরব দুই দেশের সঙ্গেই যোগাযোগ বাড়িয়ে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের জন্য সবচেয়ে বড় বাস্তবতা হলো ইরানকে সরাসরি প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখা কঠিন। কারণ দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ সীমান্ত, বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং রাজনৈতিক যোগাযোগ রয়েছে।

এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পাকিস্তানের ভেতরেও প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ হয়েছে এবং সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাকিস্তানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিয়া মুসলিম বসবাস করায় পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, পাকিস্তান সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে চাইবে না। তবে পরিস্থিতি তৈরি হলে সৌদি আরবকে আকাশ প্রতিরক্ষা বা সীমিত সামরিক সহায়তা দিতে পারে। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখার চেষ্টা করবে ইসলামাবাদ।

তাদের মতে, এই সংকটে পাকিস্তানের সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা হতে পারে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করা এবং দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া।

সূত্র: আল জাজিরা 

এমআর/টিকে 

মন্তব্য করুন