কুকুর হত্যার দায়ে ৩ জনের আড়াই বছরের কারাদণ্ড
ছবি: সংগৃহীত
০৫:৫১ পিএম | ০৮ মার্চ, ২০২৬
রাজধানীর উত্তর যাত্রাবাড়ীর ধলপুরের লিচু বাগান এলাকায় লোহার রড, সাড়াশি ও প্রাণঘাতী ইনজেকশন দিয়ে মধ্যযুগীয় বর্বরোচিত কায়দায় নির্মম ও পৈশাচিকভাবে ২০টি কুকুর হত্যার দায়ে তিন জনের আড়াই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
রোববার (৮ মার্চ) বিকালে ঢাকার অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, মো. আবুল খায়ের, মো. অপু ও মো. মানিক।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সাইম উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করে তিনি বলেন, আসামিদের প্রাণী কল্যাণ আইন, ২০১৯ এর ১৬(ক) ধারায় ছয় মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ১৫ দিন বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। এছাড়াও একই আইনের ১৬(খ) ধারায় প্রত্যেককে দুই বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড, ১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ১৫ দিন বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। উভয় ধারার সাজা একত্রে চলবে। সেই ক্ষেত্রে প্রত্যেকে আসামিকে দুই বছরের সাজা ভোগ করতে হবে।
রায় ঘোষণার সময় আসামি মো. মানিক উপস্থিত ছিলেন। তাকে সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অপর দুই আসামি পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।
এদিকে, মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২১ সালের ২৩ জানুয়ারি যাত্রাবাড়ী থানাধীন ধলপুরের লিচু বাগান এলাকায় লোহার রড, সাড়াশি ও প্রাণঘাতী ইনজেকশন দিয়ে ২০টি কুকুর হত্যা করে বস্তায় ভরে নিয়ে যায় মামলার আসামিরা। পরে ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে আসামিদের শনাক্ত করা হয়। আসামিদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে, তারা অ্যানিমেল লাভারস অব বাংলাদেশ ও মামলার বাদী মো. মারুফুল হকসহ অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবীদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। এ ঘটনায় দুদিন পর অ্যানিমেল লাভারস অব বাংলাদেশের পক্ষে আদালতে মামলাটি দায়ের করেন মো. মারুফুল হক।
তদন্ত শেষে আসামি আবুল খায়ের মোল্লা, মো. অপু ও মো. মানিকদের বিরুদ্ধে কুকুর হত্যার কাজে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়। ২০২৪ সালের ২১ মে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। মামলার বিচারকালে তিন জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত।
আরআই/টিএ