লন্ডনে কমনওয়েলথ বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট তুলে ধরলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
১০:২৫ এএম | ০৯ মার্চ, ২০২৬
লন্ডনের ল্যাঙ্কাস্টার হাউসে অনুষ্ঠিত ২৬তম কমনওয়েলথ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক (সিএফএএমএম)-এ বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরসহ অন্যান্য কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
৫৬টি কমনওয়েলথ দেশের প্রতিনিধিরা এই বৈঠকে অংশ নেন। তারা চলতি বছরের নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের বৈঠকের (সিএইচওজিএম) এজেন্ডা ও দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্ধারিত মানদণ্ডের অবক্ষয় এবং নিয়মভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থার দুর্বলতার প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক সম্প্রদায় যে চ্যালেঞ্জিং সময় পার করছে, তা নিয়ে আলোচনা করেন।
মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে অনুষ্ঠিত অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিএফএএমএম-এ বাংলাদেশের জনগণের একজন সত্যিকারের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত থাকতে পেরে গর্ব প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজনীতিতে অসাধারণ নম্রতা এবং শাসনব্যবস্থায় প্রগতিশীল ধারণার মাধ্যমে সুশাসনের কমনওয়েলথ মূল্যবোধকে সুসংহত করছেন।
তিনি কমনওয়েলথ সচিবালয়ের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, যারা একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দল পাঠিয়েছিল। দলটি সারা দেশে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করে নির্বাচন-পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ ভোটারের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের সাফল্যের প্রশংসা করেছে।
বহুপাক্ষিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী অস্তিত্বগত বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ- বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন এবং ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা মোকাবেলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
বিকেলের অধিবেশনে তিনি প্রায় এক দশক ধরে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ার বাংলাদেশের ওপর চাপের বিষয়টি তুলে ধরেন। নতুন করে রোহিঙ্গাদের আগমন অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা ধীরে ধীরে কমে যাওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং মিয়ানমারে তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছাসেবী ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে টেকসই আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততার আহ্বান জানান।
এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বৈঠকের ফাঁকে বেশ কয়েকটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও করেন।
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ বিষয়ক সেক্রেটারি অব স্টেট (যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী) ইভেট কুপারের সঙ্গে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করা হয়।
এসকে/টিকে