ইরানে স্থল অভিযান চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র, সেনাদের ছুটি বাতিল ও নতুন প্রশিক্ষণ শুরু
ছবি: সংগৃহীত
১২:০১ পিএম | ০৯ মার্চ, ২০২৬
ইরানে বিমান হামলা অব্যাহত রাখলেও এখন পর্যন্ত স্থল অভিযান চালানোর বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু বলেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তবে রোববার আল জাজিরার প্রতিবেদনে সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি বদলেছে; ইরানে মার্কিন স্থল অভিযান শুরুর কিছু 'আভাস' মিলেছে।
সূত্রের বরাত দিয়ে আল জাজিরা বলছে, ইরানে সেনা পাঠানোর বিষয়টি নিয়ে এখন জোরালো ভাবনাচিন্তা করছে ওয়াশিংটন।
পরিস্থিতি যে দিকে গড়াচ্ছে, তাতে সেনাদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। স্থগিত রাখা হয়েছে কিছু প্রশিক্ষণ শিবিরও। পরিবর্তে সেনাদেরকে বিশেষভাবে নতুন ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
অবগত সূত্রমতে, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে মার্কিন সর্বাধিনায়ক তথা প্রেসিডেন্ট যদি স্থলপথে হামলার নির্দেশ দেন, তবে যাতে কোনো খামতি না থাকে, তার প্রস্তুতিই এখন তুঙ্গে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মার্কিন এই স্থল-অভিযান হতে পারে দুইভাবে। প্রথম প্রক্রিয়াটি প্রথাগত রণকৌশল মেনে পূর্ণাঙ্গ আক্রমণ। তবে সেক্ষেত্রে অন্তত পাঁচ লাখ সেনার প্রয়োজন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে এত অল্প সময়ের ব্যবধানে মধ্যপ্রাচ্যে বিপুল সংখ্যক সেনা মোতায়েন করার মতো অবস্থায় পেন্টাগন আছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
দ্বিতীয় বিকল্প হতে পারে ইরানের মাটিতে আমেরিকার বিশেষ বাহিনীর (স্পেসাল ফোর্সেস) ঝটিকা অভিযান। অতীতে এই ধরনের অভিযানের কথা অনেকবার আলোচনায় এসেছে। গত ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে ফের আলোচনা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের হাতে থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ছিনিয়ে আনতেই বিশেষ বাহিনীকে কাজে লাগানো হতে পারে।
তবে বিভিন্ন কারণে এখনই এই অভিযান শুরু করা যাচ্ছে না। প্রথম কারণ, ইরানে আমেরিকার লাগাতার বিমান হামলা চলছে। এই বোমাবর্ষণের মধ্যে স্থল অভিযান চালানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
তবে হোয়াইট হাউস যদি শেষপর্যন্ত আকাশপথের লড়াইকে পুরোদস্তুর স্থলযুদ্ধে রূপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে ভবিষ্যতে এই বিকল্প পথটিকেই বেছে নেওয়া হতে পারে।
অবশ্য ৬ মার্চ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানে এ মুহূর্তে স্থল অভিযান চালানোর কথা ভাবা কেবলই সময় নষ্ট।
এমআর/টিকে