© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

‘রকস্টার’ সিনেমার ট্র্যাজিক সমাপ্তির রহস্য ভাঙলেন ইমতিয়াজ আলী!

শেয়ার করুন:
‘রকস্টার’ সিনেমার ট্র্যাজিক সমাপ্তির রহস্য ভাঙলেন ইমতিয়াজ আলী!

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৫:৩৬ পিএম | ০৯ মার্চ, ২০২৬

হিন্দি সিনেমায় প্রেম, ভাঙন আর আত্মখোঁজের গল্পকে নতুনভাবে তুলে ধরেছেন নির্মাতা ইমতিয়াজ আলী। তার নির্মিত ‘রকস্টার’ ও ‘তামাশা’ আজও দর্শকদের মনে গভীর ছাপ রেখে গেছে।


সম্প্রতি এক ভক্তদের আয়োজিত অনুষ্ঠানে ইমতিয়াজ আদঞ প্রকাশ করেছেন ‘রকস্টার’-এর সমাপ্তি নিয়ে একটি অজানা তথ্য। একই সঙ্গে তিনি আবেগঘনভাবে জানিয়েছেন, ‘তামাশা’ সিনেমার প্রধান চরিত্র ভেদের পেছনে লুকিয়ে আছে তার বাস্তব জীবনের এক বন্ধুর গল্প।

মুম্বাইয়ে এক ফ্যান মিটআপে ইমতিয়াজ আলী জানান, ‘রকস্টার’ সিনেমায় প্রথম স্ক্রিপ্টে হীরের মৃত্যু ছিল না। কিন্তু সেই খসড়া স্ক্রিপ্টটি হারিয়ে যাওয়ার পর নতুন করে গল্প লিখতে গিয়ে তিনি শেষ পর্যন্ত চরিত্রটিকে মেরে ফেলেন। তিনি বলেন, গল্প লিখতে গিয়ে তিনি প্রভাবিত হয়েছিলেন বিখ্যাত প্রেমকাহিনি হির রাঞ্জা থেকে। সেই গল্পে যেমন হীর রাঞ্জার আগে মারা যায়, তেমনই সিনেমাতে হয়েছে।

সিনেমায় রণবীর কাপুর অভিনীত জর্ডান চরিত্রটিরও শেষ পর্যন্ত মৃত্যু হয় বলে তিনি ভাবছিলেন। কিন্তু দর্শককে সেই অংশ দেখানোর আগেই গল্প শেষ হয়ে যায় হীরের মৃত্যু দিয়ে। ছবিতে হীর চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন নার্গিস ফাখরি।



অন্যদিকে ইমতিয়াজ আরও জানান, ‘তামাশা’ সিনেমার নায়ক ভেদ চরিত্রের নাম ও গল্পের কিছু অংশ এসেছে তার স্কুলজীবনের এক বন্ধুর জীবন থেকে। তার সেই বন্ধুর নাম ছিল ভেদ বর্ধন ত্রিপাঠী। স্কুলে খুব লাজুক স্বভাবের ইমতিয়াজের জন্য সেই বন্ধুই ছিল সবচেয়ে কাছের মানুষ। বহু বছর পরে স্ক্রিপ্ট লিখতে গিয়ে হঠাৎ করেই ‘ভেদ’ নামটি তার মনে আসে।

তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, তার সেই বন্ধু গিটার বাজাতে খুব ভালোবাসতেন। কিন্তু পরে চিকিৎসক হওয়ার পথে হাঁটতে গিয়ে নিজের সেই স্বপ্ন পূরণ করতে পারেননি। জীবনের নানা ব্যর্থতা ও হতাশার মধ্যে তিনি ধীরে ধীরে বদলে যান। ইমতিয়াজ জানান, বহু বছর পরে লন্ডনে গিয়ে বন্ধুর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। তখনই তিনি বুঝতে পারেন কেন হয়তো অজান্তেই নিজের সিনেমার চরিত্রটির নাম ‘ভেদ’ রেখেছিলেন।

ইমতিয়াজ আলীর সিনেমার গল্পগুলো যে শুধু কল্পনা নয়, তার ভেতরে লুকিয়ে থাকে বাস্তব জীবনের অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা—সাম্প্রতিক এই কথোপকথন যেন সেটাই আবারও প্রমাণ করল।

‘রকস্টার’-এর ট্র্যাজিক সমাপ্তি হোক বা ‘তামাশা’র আত্মঅন্বেষণের গল্প—সবকিছুর পেছনেই আছে ব্যক্তিগত স্মৃতি, বন্ধুত্ব আর জীবনের না বলা অনেক গল্প।

এমকে/টিএ

মন্তব্য করুন