অর্থনৈতিক চাপে ফেলে যুক্তরাষ্ট্রকে পিছু হটতে বাধ্য করব: কামাল খারাজি
ছবি: সংগৃহীত
১২:২৬ এএম | ১০ মার্চ, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিরুদ্ধে একটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের জন্য তেহরান পুরোপুরি প্রস্তুত বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে এই সংঘাত থেকে পিছু হটতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বাধ্য করার জন্য উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর আক্রমণ অব্যাহত রাখারও ইঙ্গিত দিয়েছে দেশটি। যুদ্ধের দশম দিনে এসে ইরানের এই কঠোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ের বৈদেশিক নীতি উপদেষ্টা কামাল খারাজি আজ সোমবার তেহরানে সিএনএনকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনীতির সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি জানান, এই যুদ্ধ এখন কেবল ‘অর্থনৈতিক আঘাতের’ মাধ্যমেই শেষ হতে পারে। খারাজি বলেন, ‘আমি এখন আর কূটনীতির কোনো জায়গা দেখছি না।’
খারাজি স্পষ্ট করে বলেন, অর্থনৈতিক চাপ এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে হবে যাতে অন্য দেশগুলো এই সংঘাত থামাতে বাধ্য হয়। তিনি পরামর্শ দেন, উপসাগরীয় আরব দেশ এবং অন্যান্য রাষ্ট্রগুলোকে উচিত যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করা যাতে তারা এই আগ্রাসন বন্ধ করে। তিনি বলেন, ‘এই যুদ্ধ অন্যদের ওপর প্রচুর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে-তা সে মুদ্রাস্ফীতিই হোক বা জ্বালানির অভাব। যুদ্ধ চলতে থাকলে এই চাপ আরও বাড়বে এবং তখন অন্যদের হস্তক্ষেপ করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।’
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশে হামলা চালিয়েছে ইরান। যদিও তেহরান দাবি করছে যে, তারা কেবল উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে, কিন্তু বাস্তবে আবাসিক ভবন এবং বিমানবন্দরগুলোও বারবার হামলার শিকার হচ্ছে।
ইরানের এই হামলাগুলো বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাণিজ্যের ভঙ্গুরতাকে কাজে লাগিয়েছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং ট্রানজিট রুটগুলো লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে নৌ-চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে সোমবার অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের পকেটে এবং বৈশ্বিক শেয়ার বাজারে।
এমআই/টিএ