ব্যারেল প্রতি ২০০ ডলারে তেল কেনার জন্য বিশ্বকে প্রস্তুত থাকতে বলল ইরান
ছবি: সংগৃহীত
০৯:১৫ পিএম | ১১ মার্চ, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের জেরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইরানের সামরিক কমান্ড বিশ্ববাসীকে ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম ২০০ ডলারে পৌঁছানোর জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছে।
বুধবার এক বিবৃতিতে ইরানের সামরিক কমান্ডের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাকারি বলেন, 'আঞ্চলিক নিরাপত্তা অস্থিতিশীল হয়ে পড়ায় তেলের দাম দ্রুত বাড়তে পারে'। যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, 'তেলের দাম আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর নির্ভর করে, আর সেই নিরাপত্তা আপনারাই অস্থিতিশীল করেছেন—তাই ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলারের তেলের জন্য প্রস্তুত থাকুন।'
একই দিনে ইরান ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। এতে ইরান দেখাতে চেয়েছে যে তীব্র হামলার মধ্যেও তারা পাল্টা প্রতিরোধ চালিয়ে যেতে সক্ষম। এদিকে পেন্টাগন বলেছে, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা ছিল সবচেয়ে তীব্রগুলোর একটি।
সংঘাতের কারণে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবাহিত হয়। ফলে ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকটের পর এটিকে জ্বালানি সরবরাহে সবচেয়ে বড় ব্যাঘাতগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে বিনিয়োগকারীরা এখনও আশা করছেন যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্রুত এই যুদ্ধের সমাধান বের করতে পারবেন। তবে এখন পর্যন্ত সংঘাত কমার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি।
অন্যদিকে ইরানের রাজধানী তেহরানে একটি ব্যাংকের অফিসে হামলার পর ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের সঙ্গে ব্যবসা করা ব্যাংকগুলোকেও তারা লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের মানুষকে ব্যাংক থেকে অন্তত এক হাজার মিটার দূরে থাকার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
ইসরায়েলের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, যুদ্ধের মধ্যেও ইরানের শাসনব্যবস্থা টিকে থাকতে পারে—এমন ধারণা এখন ইসরায়েলি নেতৃত্বের মধ্যেও তৈরি হয়েছে। তবে ওয়াশিংটন খুব শিগগিরই সামরিক অভিযান থামাতে যাচ্ছে—এমন কোনো ইঙ্গিতও এখনো পাওয়া যায়নি।
ইউটি/টিএ