ইরানে হামলা চালানোর জন্য লক্ষ্যবস্তু খুঁজে পাচ্ছে না ট্রাম্প!
ছবি: সংগৃহীত
০৯:৫৩ পিএম | ১১ মার্চ, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হতে পারে, কারণ দেশটিতে হামলা চালানোর মতো কার্যত আর কোনো লক্ষ্যবস্তু অবশিষ্ট নেই।
বুধবার (১১ মার্চ) সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের সঙ্গে এক সংক্ষিপ্ত ফোনালাপে তিনি এই মন্তব্য করেন। মাত্র পাঁচ মিনিটের ওই আলাপে ট্রাম্প বলেন, তিনি যখনই চাইবেন, তখনই এ যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে।
তবে ট্রাম্প জনসমক্ষে যুদ্ধ শেষের ইঙ্গিত দিলেও, মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুদ্ধ কখন বন্ধ হবে সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত তাদের কাছে কোনো অভ্যন্তরীণ নির্দেশনা আসেনি। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বুধবার স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ছাড়াই এ যুদ্ধ চলবে। যতক্ষণ পর্যন্ত প্রয়োজন এবং যতক্ষণ না সব লক্ষ্য অর্জিত হয়ে এই অভিযানে চূড়ান্ত বিজয় নিশ্চিত হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত হামলা অব্যাহত থাকবে। মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন যে, তারা অন্তত আরও দুই সপ্তাহ ইরানে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এরই মধ্যে মঙ্গলবার (১০ মার্চ) মার্কিন গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালীতে মাইন স্থাপন শুরু করেছে ইরান। ঠিক কতগুলো মাইন মোতায়েন করা হয়েছে তা নিশ্চিত না হওয়া গেলেও, মার্কিন মূল্যায়নে এ সংখ্যা খুবই কম বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ট্রাম্প অ্যাক্সিওসকে নিশ্চিত করেছেন, মঙ্গলবার মার্কিন হামলায় ইরানের ১৬টি মাইন-বিছানো নৌযান ধ্বংস করা হয়েছে, যার ফলে তাদের পরিকল্পনা অনেকটাই ব্যাহত হয়েছে।
এ বিষয়ে মার্কিন সেন্টকম কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বুধবার এক ভিডিও বার্তায় বলেন, হরমুজ প্রণালীতে ইরানের শক্তি প্রদর্শন এবং জাহাজ চলাচলে হয়রানি করার সক্ষমতা পুরোপুরি নির্মূল করাই মার্কিন সেনাবাহিনীর মূল লক্ষ্য। তিনি জানান, মার্কিন বাহিনী ইরানি শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে ধ্বংসাত্মক আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে। বর্তমানে মার্কিন সামরিক শক্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ইরানের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাচ্ছে। কুপারের দাবি, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলাও আগের চেয়ে ব্যাপকভাবে কমে গেছে।
অ্যাক্সিওসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সামরিক অভিযানের গতিপ্রকৃতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, যুদ্ধ চমৎকারভাবে এগিয়ে যাচ্ছে এবং তারা নির্ধারিত সময়সূচীর চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে আছেন। এমনকি মূল ছয় সপ্তাহের সময়কালেও ইরানের সর্বোচ্চ পরিমাণ ক্ষতিসাধন করা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন, ইরানের শত্রুতা শুধু ইসরায়েল ও আমেরিকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা উপসাগরীয় দেশগুলোতেও বিস্তৃত ছিল। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য অংশের প্রতিও ইরানের লোলুপ দৃষ্টি ছিল মন্তব্য করে ট্রাম্প বলেন, তারা গত ৪৭ বছরের মৃত্যু ও ধ্বংসযজ্ঞের চরম মূল্য চোকাচ্ছে। এটি একটি প্রতিশোধ এবং ইরান এত সহজে পার পাবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
এসএস/টিএ