ফুটবলার থেকে সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ
ছবি: সংগৃহীত
০৪:২১ পিএম | ১২ মার্চ, ২০২৬
গেল ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। অবশেষে নির্বাচনের এক মাসের মাথায় শুরু হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) স্পিকারের চেয়ার শূন্য রেখেই অধিবেশন শুরু হয়। প্রথম অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন প্রবীণ সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে স্পিকার পদে নির্বাচিত হন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। আর ডেপুটি স্পিকার পদে নির্বাচিত হন ভূমি প্রতিমন্ত্রী কায়সার কামাল।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ দীর্ঘদিন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির হয়ে এবং ১৯৯১ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে বিএনপির হয়ে একাধিকবার সংসদ সদস্য হন।
এছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় তিনি বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী, পাটমন্ত্রী ও পানিসম্পদ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। সবশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে প্রথমে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী হন। এবার স্পিকারের দায়িত্ব পেলেন মেজর হাফিজ।
১৯৪৪ সালের ২৯ অক্টোবর ভোলার লালমোহনে জন্মগ্রহণ করেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তার পিতা মরহুম ডা. আজহার উদ্দিন আহমদ ছিলেন পাকিস্তান জাতীয় সংসদের সাবেক সদস্য, এবং মা মরহুমা করিমুন নেছা বেগম গৃহিণী ছিলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ১৯৬৪ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক (সম্মান) এবং ১৯৬৫ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১ ডিসেম্বর ১৯৬৬ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত হন এবং ১৯৭৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে অবসর গ্রহণ করেন।
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তিনি ‘বীর বিক্রম’ খেতাবে ভূষিত হন মেজর হাফিজ। তিনি ছিলেন খ্যাতনামা ফুটবলার। ১৯৬৭-১৯৭১ সালে পাকিস্তান জাতীয় দলের সদস্য হিসেবে ইরান, তুরস্ক ও বার্মা (বর্তমান মিয়ানমার) সফর করেন।
১৯৭০ সালে তেহরানে অনুষ্ঠিত আরসিডি প্রতিযোগিতায় তিনি জাতীয় দলের অধিনায়ক ছিলেন। ২০০৫ সালে ফিফা তাকে বিংশ শতাব্দীর বাংলাদেশের সেরা ফুটবলার হিসেবে সেন্টেনারি অর্ডার অব মেরিট সম্মাননা প্রদান করে। তিনি ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং দলের সদস্য হিসেবে ১২ বছর খেলেছেন এবং ১৯৭৬ সালে দলের অধিনায়কের দায়িত্বও পালন করেন। এছাড়া ১৯৬৪-৬৬ সালে প্রাদেশিক প্রতিযোগিতায় ১০০ ও ২০০ মিটার দৌড়ে পূর্ব পাকিস্তানের দ্রুততম মানবের খেতাব লাভ করেন।
এসএস/টিএ