স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশের পর কক্সবাজার সৈকতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু
ছবি: সংগৃহীত
০৮:২০ পিএম | ১২ মার্চ, ২০২৬
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনার পর কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে থাকা অবৈধ ও অস্থায়ী স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। উচ্ছেদকালে ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন, প্রশাসনকে বিপুল অঙ্কের টাকা দিয়ে তারা দোকান বসিয়েছিলেন। তাই উচ্ছেদ করা হলে সেই টাকা ফেরত দিতে হবে, নতুবা তারা আইনি ব্যবস্থা নেবেন।
গত সোমবার (৯ মার্চ) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সৈকতের সব অবৈধ স্থাপনা এক সপ্তাহের মধ্যে অপসারণের নির্দেশ দেন। এরপর দুই দিন মাইকিং করে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে সৈকতের বালিয়াড়ি থেকে ৩০টির বেশি স্থাপনা উচ্ছেদের মধ্য দিয়ে এই অভিযান শুরু হয়।
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টের বালিয়াড়িতে গড়ে ওঠা ফিশ ফ্রাই মার্কেটে অভিযান শুরু করে জেলা প্রশাসন। বালিয়াড়িজুড়ে থাকা একের পর এক অস্থায়ী দোকানপাট পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে যাচাই-বাছাইয়ের পর ভেঙে ট্রাকে তুলে নেন শ্রমিকরা। সেখান থেকে তিন ট্রাক অস্থায়ী দোকান উচ্ছেদ করা হয়।
এরপর আভিযানিক দলটি সুগন্ধা পয়েন্টের রাস্তার মোড় ও ঝাউবাগানের বালিয়াড়িতে অভিযান চালিয়ে আরও বেশ কয়েকটি অস্থায়ী দোকান গুঁড়িয়ে দেয় এবং রাস্তার পাশের অন্য দোকানগুলো দ্রুত সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেয়।
সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টের চটপটি ব্যবসায়ী আব্দুল খালেক বলেন, ‘কোনো পূর্বঘোষণা বা আমাদের না জানিয়ে হঠাৎ করে এসে দোকান উচ্ছেদ শুরু করা হয়েছে।’ তিনি অভিযোগ করেন, সৈকতে নতুন করে বসানো অনেক দোকান থাকলেও সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে বেছে বেছে কয়েকটি দোকান উচ্ছেদ করে লোকদেখানো অভিযান চালানো হচ্ছে।
বৃহত্তর সুগন্ধা বিচ মার্কেট সমিতির সভাপতি জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘আমার এই কার্ডটি বৈধ নাকি অবৈধ, আপনারা ভালো করে দেখুন। এটি আমার নামেই দেয়া হয়েছে। কার্ডটি বৈধ হলে অভিযানের সময় আমার দোকান কেন ভাঙা হলো?’
জয়নাল আবেদীন আরও অভিযোগ করেন, বিচ মার্কেটের কার্ড বিনামূল্যে দেয়া হয়নি, বরং অনেকের কাছ থেকে টাকা নেয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, পাঁচ শতাধিক কার্ডের মাধ্যমে মাথাপিছু প্রায় ৬০ হাজার টাকা করে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘সরকার আমাদের কাছ থেকে যে টাকা নিয়েছে, এখন উচ্ছেদের সময় সেই টাকার কী হবে? জেলা প্রশাসনের যেসব কর্মকর্তা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থেকে কার্ড দেয়ার নামে অর্থ নিয়েছেন, তাদের অবশ্যই সেই টাকা ফেরত দিতে হবে।’ অন্যথায় ব্যবসায়ীরা আইনগত ও গণতান্ত্রিক উপায়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগের বিষয়ে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনজু বিন আফনান বলেন, ‘গত দুই দিন ধরে সৈকত এলাকায় মাইকিং করে অবৈধ দখলদারদের সতর্ক করা হয়েছে এবং স্বেচ্ছায় সরে যাওয়ার জন্য সময় দেয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও যারা স্থান ছাড়েননি, তাদের বিরুদ্ধেই এখন অভিযান শুরু করা হয়েছে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী এই অভিযান অব্যাহত থাকবে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘কেউ যদি কোনো অনিয়ম বা অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ ও প্রমাণ দেন, তাহলে প্রশাসন অবশ্যই ব্যবস্থা নেবে। সৈকতে কর্মরত বিচকর্মীসহ যে-ই জড়িত থাকুক না কেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
এসএস/টিএ