© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

পাকিস্তানের পেশোয়ারে যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেট স্থায়ীভাবে বন্ধের সিদ্ধান্ত

শেয়ার করুন:
পাকিস্তানের পেশোয়ারে যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেট স্থায়ীভাবে বন্ধের সিদ্ধান্ত

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১০:১৮ এএম | ১৩ মার্চ, ২০২৬
পাকিস্তানের পেশোয়ারে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেট স্থায়ীভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। আফগানিস্তান সীমান্তের সবচেয়ে কাছের এই কূটনৈতিক মিশনটি ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আফগানিস্তান আগ্রাসনের আগে, চলাকালীন এবং পরে গুরুত্বপূর্ণ অপারেশন ও লজিস্টিকস কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল।

সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

এই সপ্তাহে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কংগ্রেসকে কনস্যুলেটটি বন্ধ করার পরিকল্পনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস বুধবার (১১ মার্চ) এ সংক্রান্ত একটি নোটিশের কপি হাতে পেয়েছে।সেখানে বলা হয়েছে, কনস্যুলেটটি বন্ধ করলে বছরে প্রায় ৭ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হবে এবং এতে পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থ এগিয়ে নেওয়ার সক্ষমতার ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।

এই সিদ্ধান্ত নিয়ে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে আলোচনা চলছিল। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সময় থেকে প্রায় সব ফেডারেল সংস্থায় ব্যয় সংকোচন শুরু হয়েছিল। তবে এই পদক্ষেপের সঙ্গে সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধের কোনো সম্পর্ক নেই। ওই সংঘাতকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের বিভিন্ন শহর বিশেষ করে করাচি ও পেশোয়ার এ বিক্ষোভের কারণে মার্কিন কনস্যুলেটগুলো সাময়িকভাবে কার্যক্রম স্থগিত করেছিল।

গত বছর স্টেট ডিপার্টমেন্টে বড় ধরনের ছাঁটাইয়ের অংশ হিসেবে কয়েক হাজার কূটনৈতিক কর্মীকে বরখাস্ত করা হয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার বহু কর্মীকেও চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তবে পেশোয়ার কনস্যুলেটই প্রথম বিদেশি কূটনৈতিক মিশন, যেটি পুনর্গঠনের কারণে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

নোটিশ অনুযায়ী, পেশোয়ার কনস্যুলেটে বর্তমানে ১৮ জন মার্কিন কূটনীতিক ও সরকারি কর্মী এবং ৮৯ জন স্থানীয় কর্মী কাজ করছেন। এটি বন্ধ করতে প্রায় ৩ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে। এর মধ্যে ১.৮ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে অস্থায়ী অফিস হিসেবে ব্যবহৃত সাঁজোয়া ট্রেইলার সরিয়ে নিতে।

এ ছাড়া কনস্যুলেটের যানবাহন বহর, ইলেকট্রনিক ও টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম এবং অফিসের আসবাবপত্র স্থানান্তর করা হবে ইসলামাবাদ এ অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এবং বাকি কনস্যুলেটগুলোতে করাচি ও লাহোরে।

আফগান সীমান্ত ও কাবুলের কাছাকাছি হওয়ায় পেশোয়ার কনস্যুলেট দীর্ঘদিন ধরে আফগানিস্তানে স্থলপথে যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল। একই সঙ্গে উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিক এবং যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা প্রত্যাশী আফগান নাগরিকদের জন্য এটি ছিল প্রধান যোগাযোগ কেন্দ্র।

নোটিশে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে মার্কিন নাগরিকসহ অন্যান্যদের জন্য কনস্যুলার সেবা প্রদান করবে ইসলামাবাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস, যা পেশোয়ার থেকে প্রায় ১১৪ মাইল দূরে। পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, কনস্যুলেট বন্ধ হলেও যুক্তরাষ্ট্রের মূল জাতীয় স্বার্থ রক্ষা, মার্কিন নাগরিকদের সহায়তা প্রদান কিংবা বিদেশি সহায়তা কর্মসূচির তদারকিতে কোনো সমস্যা হবে না, কারণ এসব দায়িত্ব ইসলামাবাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসই অব্যাহতভাবে পালন করবে।

এসএস/এসএন

মন্তব্য করুন