দুবাইয়ের আতঙ্ক পেরিয়ে ভারতে ফিরেই মুখ খুললেন লারা দত্ত
ছবি: সংগৃহীত
০৬:০৩ পিএম | ১৩ মার্চ, ২০২৬
যুদ্ধের উত্তাপে যখন অস্থির পশ্চিম এশিয়ার আকাশ, তখন সেই অশান্তির একেবারে কাছাকাছি অবস্থান করছিলেন বলিউড অভিনেত্রী লারা দত্ত। কয়েক দিন ধরে দুবাইয়ে আটকে থাকার পর অবশেষে মেয়ে সাইরাকে সঙ্গে নিয়ে ভারতে ফিরেছেন তিনি। দেশে ফিরে স্বস্তির নিশ্বাস ফেললেও, সাম্প্রতিক সেই অভিজ্ঞতার ভয়াবহতা এখনও স্পষ্ট তাঁর কথায়।
লারা জানিয়েছেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার সময় তিনি মেয়ের টেনিস প্রশিক্ষণের জন্য দুবাইয়ে ছিলেন। তাঁর স্বামী মাহেস বাহুপতি তখন কর্মসূত্রে লন্ডনে অবস্থান করছিলেন। পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে, কারণ তাঁদের থাকার জায়গা ছিল জেবেল আলি বন্দরের খুব কাছাকাছি সেখান থেকে মাত্র দশ কিলোমিটার দূরেই বোমাবর্ষণের শব্দ শোনা যাচ্ছিল। চারদিকে অনিশ্চয়তা, আকাশপথে বারবার বিঘ্ন, বিমান চলাচলে অনিয়ম সব মিলিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছিল।

এই পরিস্থিতিতে পরিবারের কাছে ফিরতে ঝুঁকি নিয়েই সিদ্ধান্ত নেন অভিনেত্রী। বিপজ্জনক এলাকা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে পৌঁছান ফুজাইরাহতে। কিন্তু সেখানেও স্বস্তি ছিল না। কারণ তার আগের দিনই ফুজাইরাহ বন্দর ও তেল শোধনাগারে হামলার খবর পৌঁছেছিল। এমন উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থার মধ্যেই বিমান ধরে শেষ পর্যন্ত ভারতে ফিরতে সক্ষম হন তিনি।
দেশে ফিরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে লারা বলেন, পুরো অভিজ্ঞতাটি যেন বাস্তবের চেয়ে বেশি সিনেমার মতো মনে হচ্ছিল। তাঁর কথায়, পরিস্থিতি এতটাই অস্বাভাবিক ছিল যে অক্ষয় কুমার ফোন করে খোঁজ নেওয়ার সময় তিনি মজা করে বলেন, যেন ‘এয়ারলিফট’-এর দ্বিতীয় পর্বে অভিনয় করছেন।
কয়েক দিন আগেই সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও ভাগ করে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরেছিলেন অভিনেত্রী। সেখানে দূরে বিস্ফোরণের শব্দ, উদ্বিগ্ন মানুষের চলাচল এবং অস্বস্তিকর পরিবেশের কথা উঠে আসে। সেই ভিডিও ঘিরেও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছিল।
তবে এই কঠিন সময়েও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রশংসা করেছেন লারা। তাঁর মতে, চরম উত্তেজনার মধ্যেও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন যথাসাধ্য চেষ্টা করেছে।
যুদ্ধের অভিঘাতে বিশ্বজুড়ে বিমান পরিষেবায় যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে সাধারণ যাত্রীদের পাশাপাশি পরিচিত মুখদের জীবনেও। লারা দত্তর সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা সেই বাস্তবতারই আরেকটি স্পষ্ট ছবি।
পিআর/টিকে