© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

অক্ষয় খান্নাকে একসময় কেন এড়িয়ে চলতেন ফারাহ খান!

শেয়ার করুন:
অক্ষয় খান্নাকে একসময় কেন এড়িয়ে চলতেন ফারাহ খান!

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৮:৪২ এএম | ১৪ মার্চ, ২০২৬
অভিনেতা অক্ষয় খান্না আবারও আলোচনায়। সাম্প্রতিক সময়ে ধুরন্ধর মুক্তির পর তাঁর অভিনয় নতুন করে দর্শকের নজর কেড়েছে। সেই সাফল্যের আবহেই সামনে এসেছে বহু বছর আগের এক অজানা অধ্যায় এক সময় নাকি তাঁর নাম শুনলেই কাজ এড়িয়ে যেতে চাইতেন পরিচালক ফারাহ খান।

নব্বইয়ের দশকে একাধিক ছবিতে একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে অক্ষয় খান্নার স্বভাব নিয়ে অস্বস্তিতে পড়েছিলেন ফারাহ। সম্প্রতি এক আলাপচারিতায় তিনি জানান, সে সময় অক্ষয় ছিলেন খুবই অন্তর্মুখী, কিন্তু সেটে তাঁর আচরণ সব সময় সহজ ছিল না। কোনো ছবিতে অক্ষয়ের উপস্থিতির কথা শুনলেই তিনি কখনও কখনও ব্যস্ততার অজুহাত দিতেন। কারণ তখন অভিনেতার মেজাজ ছিল অস্থির, সংলাপ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করতেন, কখনও বিরক্ত হয়ে জিনিসপত্র ছুড়ে ফেলতেন।

ফারাহর ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যক্তিগত এক অস্বস্তিও তখন অক্ষয়ের আচরণে প্রভাব ফেলেছিল। চুল পড়ে যাওয়ার সমস্যায় তিনি মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন। শুটিংয়ের সময় পানি বা বৃষ্টির দৃশ্য থাকলে টুপি পরে থাকতে চাইতেন, যাতে বিষয়টি আড়ালে রাখা যায়। চারপাশের অনেকেই তখন তাঁর ভেতরের অস্বস্তি বুঝতে পারলেও, সেটের পরিবেশে তার ছাপ পড়ত স্পষ্টভাবেই।

তবে সময়ের সঙ্গে বদলে যায় সেই মানুষটি। দিল চাহতা হ্যায় ছবির সময় থেকেই অক্ষয়ের স্বভাবে বড় পরিবর্তন লক্ষ্য করেন ফারাহ। তাঁর মতে, সেই সময় অভিনেতা অনেক শান্ত, সংযত এবং মনোযোগী হয়ে ওঠেন। আগের অস্থিরতা যেন ধীরে ধীরে সরে যায়, জায়গা নেয় পরিণত মনোভাব।

এই পরিবর্তনের পর সম্পর্কেও আসে উষ্ণতা। সম্প্রতি ধুরন্ধর দেখে ফারাহ নিজেই ফোন করে অভিনন্দন জানান অক্ষয়কে। পরে তাঁর আলিবাগের বাড়িতেও যান। এখনকার অক্ষয়কে নিয়ে ফারাহর মূল্যায়ন তিনি অযথা বাড়তি কথা বলেন না, নিজের কাজেই ডুবে থাকেন, আর অভিনয়কে গভীরভাবে উপভোগ করেন।



অক্ষয়ের অভিনয়জীবনের আলোচিত অধ্যায়গুলোর একটি তিস মার খান। মুক্তির সময় ছবিটি বাণিজ্যিকভাবে ব্যর্থ হলেও পরে ধীরে ধীরে দর্শকের কাছে আলাদা মর্যাদা পায়। বিশেষ করে আতিশ কাপুর চরিত্রে অক্ষয়ের অভিনয় সামাজিক মাধ্যমে বারবার ফিরে এসেছে। অদ্ভুত, খানিক অপ্রত্যাশিত অথচ আন্তরিক অভিনয়ের জন্য চরিত্রটি আজও আলোচনায় থাকে।

ফারাহ জানান, এই চরিত্রের জন্য প্রথমে অনেক অভিনেতাই রাজি হননি। এমনকি শারমন জোশী-ও শুরুতে না বলেছিলেন। কারণ চরিত্রটি ছিল একেবারেই অস্বাভাবিক ধরনের হাস্যরসনির্ভর। শেষ পর্যন্ত অক্ষয় খান্নাকে নেওয়ার সিদ্ধান্তই ছবির অন্যতম স্মরণীয় দিক হয়ে ওঠে।

দীর্ঘ সময়ের দূরত্ব পেরিয়ে আজ সেই পুরনো অস্বস্তির জায়গায় রয়েছে পারস্পরিক সম্মান। একসময় যাঁর উপস্থিতি এড়িয়ে চলতেন পরিচালক, এখন তাঁর অভিনয়ের প্রশংসা করতেই ফোন করেন নিজে থেকে। বলিউডের সম্পর্কের ভেতর এমন বদলই যেন আবার মনে করিয়ে দিল সময় কখনও কখনও মানুষের পরিচয় নতুন করে লিখে দেয়।

পিআর/টিএ

মন্তব্য করুন