প্রসেনজিৎ-কে নিয়ে স্মৃতিচারণ করলেন অভিনেত্রী অনামিকা সাহা
ছবি: সংগৃহীত
০৯:৫৬ এএম | ১৪ মার্চ, ২০২৬
টালিগঞ্জের দীর্ঘ পথচলায় অসংখ্য সম্পর্ক সময়ের সঙ্গে বদলেছে, অনেক সমীকরণ দূরে সরে গেছে, কিন্তু কিছু বন্ধন থেকে গেছে আগের মতোই অটুট। অভিনেত্রী অনামিকা সাহা সম্প্রতি সেই রকমই এক সম্পর্কের গল্প শোনালেন যেখানে আছে স্নেহ, বিশ্বাস, বকুনি, আবার গভীর মমতাও। আর সেই সম্পর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়।
দীর্ঘ অভিনয়জীবনে একসঙ্গে শতাধিক ছবিতে কাজ করতে করতে পর্দার সম্পর্ক কখন যে বাস্তবের আপনজনের জায়গা নিয়ে নিয়েছে, তা আলাদা করে বোঝানোর প্রয়োজন পড়ে না। বহুবার মা-ছেলের চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে তাঁদের মধ্যে এমন এক আন্তরিকতা তৈরি হয়েছে, যা আজও একই উষ্ণতায় টিকে আছে। অনামিকা বলেন, প্রসেনজিতের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কেবল সহশিল্পীর নয়, অনেকটাই পরিবারের মতো।

সেই প্রসঙ্গেই উঠে আসে বহু বছর আগের একটি স্মৃতি। তখনও আজকের মতো প্রতিষ্ঠিত নন প্রসেনজিৎ। ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন তাঁর মা রন্তা চট্টোপাধ্যায়। অনামিকার সামনে একদিন উদ্বেগ নিয়ে বলেছিলেন, বুম্বার কী হবে তা নিয়ে তাঁর বড় চিন্তা। সেই সময় অনামিকা তাঁকে আশ্বস্ত করেছিলেন একদিন এই ছেলেই অনেক বড় হবে, আর সেই দিন দেখে আনন্দ করবেন তিনি। বহু বছর পর ফিরে তাকিয়ে অনামিকার মনে হয়, সেই কথাই আজ বাস্তব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলা চলচ্চিত্রে প্রসেনজিতের উত্থান খুব কাছ থেকে দেখেছেন অনামিকা। তাঁর মতে, কঠিন সময় পেরিয়ে, সংগ্রামের মধ্য দিয়েই বড় হয়ে উঠেছেন তিনি। পরিবারের লড়াই, মায়ের কষ্ট—সব মিলিয়ে যে অভিজ্ঞতা, তা-ই হয়তো তাঁকে আরও দৃঢ় করেছে। আজ তিনি শুধু জনপ্রিয় নন, বাংলা ছবির অন্যতম বড় মুখ।
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অনামিকা হেসে বলেন, এত কাজের ভেতর কখনও বকেছেন, কখনও আদর করেছেন। সম্পর্কের স্বাভাবিক ঘনিষ্ঠতাই হয়তো এমন সহজ স্বর এনে দিয়েছে। তাঁর কথায়, প্রসেনজিৎ ডাকলে এখনও না গিয়ে থাকতে পারেন না। এত বছরের সম্পর্কের টান আজও আগের মতোই শক্ত।
এই আত্মীয়তা কেবল প্রসেনজিতেই সীমাবদ্ধ নয়, পৌঁছে গেছে পরের প্রজন্মেও। তাঁর ছেলে ত্রিশাঞ্জিত চট্টোপাধ্যায় অনামিকাকে আদর করে বিশেষ নামে ডাকে। এমনকি নিজের কোনো কাজের পরিকল্পনায়ও তাঁকে রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে বলেও জানান অনামিকা। এতে তিনি বুঝতে পারেন, সম্পর্কের উত্তরাধিকারও কখনও কখনও শিল্পের ভেতর দিয়ে বেঁচে থাকে।
অনামিকার চোখে প্রসেনজিৎ শুধু বড় অভিনেতা নন, বড় মনের মানুষও। তাঁর কাছ থেকে কাজের বাইরে জীবনেরও অনেক কিছু শেখার সুযোগ হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। সেই কারণেই এত বছরের সম্পর্ক এখনও তাঁর কাছে বিশেষ মূল্য বহন করে।
চলচ্চিত্রের আলো-আঁধারিতে যেখানে সম্পর্ক অনেক সময় প্রয়োজনের সীমায় আটকে যায়, সেখানে অনামিকা ও প্রসেনজিতের এই দীর্ঘ বন্ধন যেন অন্য এক গল্প বলে যেখানে সময় পেরোলেও স্নেহের ভাষা বদলায় না।
পিআর/টিএ