© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

সব কথা গায়ে মাখলে মানসিক শান্তি নষ্ট হয় : শ্রাবন্তী

শেয়ার করুন:
সব কথা গায়ে মাখলে মানসিক শান্তি নষ্ট হয় : শ্রাবন্তী

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১১:০১ এএম | ১৪ মার্চ, ২০২৬
দীর্ঘ তিন দশকের অভিনয়জীবনে বহু চরিত্রে নিজেকে নতুনভাবে হাজির করেছেন অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়। এবার তিনি প্রস্তুত একেবারেই ভিন্ন এক উপস্থিতির জন্য। নতুন ছবি ঠাকুমার ঝুলিতে তাঁকে দেখা যাবে ৬৫ বছরের গিরিজাবালা চরিত্রে, যেখানে পর্দার পরিচিত নায়িকার চেনা ছক ভেঙে এক নতুন চেহারায় হাজির হচ্ছেন তিনি।

এই চরিত্রকে তিনি শুরু থেকেই নিয়েছেন চ্যালেঞ্জ হিসেবে। তাঁর ভাষায়, একজন অভিনেত্রীর কাছে নিজের পরিচিত সীমানা ভেঙে অন্য এক মানুষ হয়ে ওঠার সুযোগই বড় প্রাপ্তি।

গিরিজাবালায় পৌঁছাতে তাঁকে কেবল অভিনয় নয়, শারীরিক প্রস্তুতিও নিতে হয়েছে। চরিত্রের প্রয়োজনে ওজন বাড়াতে হয়েছে, বদলাতে হয়েছে চলাফেরার ভঙ্গি, মুখের অভিব্যক্তি, শরীরী ভাষা।

বাহ্যিক রূপান্তরের ক্ষেত্রে পুরো দলের অবদানকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন শ্রাবন্তী। তিনি জানান, কোনো কৃত্রিম মুখাবয়ব ব্যবহার ছাড়াই সাজ, পোশাক আর মেকআপের মধ্য দিয়েই চরিত্রটি ধীরে ধীরে জীবন্ত হয়ে উঠেছে। ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর পর যেন গিরিজাবালাই তাঁকে আচ্ছন্ন করত।



বাস্তব জীবনে ঠাকুমার সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটানোর সুযোগ তাঁর হয়নি। খুব ছোটবেলায় ঠাকুমাকে হারানোর কারণে সেই স্মৃতি প্রায় নেই বললেই চলে। তবে পরিবারের অনেকেই বলেন, চেহারায় তাঁর সঙ্গে নাকি আশ্চর্য মিল রয়েছে। সেই কথাও চরিত্র নির্মাণে এক ধরনের আবেগ যোগ করেছে।

এই ধারাবাহিকে তাঁর নাতনির চরিত্রে আছেন দিব্যাণী মণ্ডল। নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের মধ্যে দিব্যাণীর মনোযোগ ও শেখার আগ্রহের প্রশংসা করেছেন শ্রাবন্তী। তাঁর মতে, অভিনয়ে টিকে থাকতে হলে একাগ্রতা সবচেয়ে জরুরি।

ত্রিশ বছরের পথচলায় এখনও নিজেকে প্রমাণ করার তাগিদ আছে বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি। কারণ তাঁর ধারণা, এখনও অনেকে তাঁকে শুধু নাচ-গানের বাণিজ্যিক ছবির নায়িকা হিসেবেই দেখেন। তাই গিরিজাবালার মতো চরিত্র তাঁর কাছে নিজের ভেতরের অন্য সক্ষমতা দেখানোর সুযোগ।

এই চরিত্রের জন্য ওজন বাড়ানোর পর সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছে তাঁকে। তবে শ্রাবন্তীর ভাষায়, এত বছরের অভিজ্ঞতায় এসব এখন অনেকটাই সহনীয় হয়ে গেছে। সব কথা গায়ে মাখলে মানসিক শান্তি নষ্ট হয় এই উপলব্ধি থেকেই বেশিরভাগ সময় তিনি নীরব থাকেন। যদিও এবার কিছু মন্তব্য সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ায় প্রতিক্রিয়া জানাতে বাধ্য হয়েছেন।

তিনি মনে করেন, ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে নানা আলোচনা হয়েছে, কিন্তু সেসবকে গুরুত্ব দিলে কাজের ক্ষতি হয়। তাই নিজের মনোযোগ তিনি রেখেছেন কাজের দিকেই।

অভিনয়ের পাশাপাশি ভবিষ্যতে প্রযোজনায় আসার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন শ্রাবন্তী। যদিও এখনো বিস্তারিত পরিকল্পনা চূড়ান্ত নয়, তবে থ্রিলার, প্রেম কিংবা ভৌতিক গল্প বিভিন্ন ধরনের বিষয় নিয়ে কাজ করার ভাবনা আছে তাঁর।

ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে তাঁর একটাই ইচ্ছা একই ধরনের চরিত্রের বাইরে গিয়ে এমন কাজ করা, যেখানে শিল্পী হিসেবে পরিশ্রমের নতুন পরীক্ষা থাকে।

পিআর/টিএ

মন্তব্য করুন