© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

বৃষ্টি না হলে, ৫০ ওভার খেলা হলে ভিন্ন গল্প হতে পারত: লিটন

শেয়ার করুন:
বৃষ্টি না হলে, ৫০ ওভার খেলা হলে ভিন্ন গল্প হতে পারত: লিটন

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৩:২৯ পিএম | ১৪ মার্চ, ২০২৬

শুক্রবার দুই ঘণ্টারও বেশি সময় খেলা বন্ধ থাকার পর ম্যাচটি ৩২ ওভারে নামিয়ে আনা হয় এবং বাংলাদেশের সামনে নতুন লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৪৩ রান। কিন্তু ২৫.৩ ওভারে ১১৪ রানে অলআউট হয়ে ১২৮ রানের বড় ব্যবধানে হারতে হয় লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের। এমন হারের পর বাংলাদেশ দলের ব্যাটসম্যান লিটন দাস মনে করেন, বৃষ্টি না হলে এবং ম্যাচটি পুরো ৫০ ওভার হলে ফল ভিন্ন হতে পারত।

তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে আগে ব্যাটিং করে ২৭৪ রানের দারুণ সংগ্রহ দাঁড় করায় পাকিস্তান। কঠিন এই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হওয়ার আগে ৬.৩ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ২৩ রান। বৃষ্টির আগে ১৩ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে থাকা লিটন, খেলা শুরু হওয়ার পর আরও ২৮ রান যোগ করেন। সব মিলিয়ে ৩৩ বলে ৪১ রান করেন তিনি, যা বাংলাদেশের ইনিংসে সর্বোচ্চ।

আগের ম্যাচে পাকিস্তানকে বড় ব্যবধানে হারানোর পর দ্বিতীয় ম্যাচে এমন ভরাডুবি নিয়ে ম্যাচ শেষে দেশের একটি গণমাধ্যমকে লিটন বলেন, ‘যদি শুরুতেই উইকেট না পড়ত, তাহলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। কিন্তু ক্রিকেটে অনেক কিছুই আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকে না। আমরা কেউই জানতাম না যে বৃষ্টি আসবে এবং এতে রানরেট হঠাৎ করে অনেক বেড়ে যাবে। যদি পুরো ৫০ ওভারের ম্যাচ হতো, তাহলে গল্পটা ভিন্নও হতে পারত।’

লিটনের মতে, উইকেটটি ব্যাটিংয়ের জন্য বেশ ভালো ছিল। এমন ব্যাটিংবান্ধব উইকেটে পাকিস্তানকে ২৭৪ রানে আটকে রাখাটা ইতিবাচক বলেই মনে করেন তিনি, ‘এটি ব্যাটিংয়ের জন্য খুবই ভালো উইকেট ছিল। সেই হিসেবে তাদের ২৭৪ রানে অলআউট করতে পারা আমাদের জন্য ইতিবাচক দিক।’



উইকেটের প্রশংসা করে তিনি আরও বলেন, ‘খুবই ভালো উইকেট। আমার মনে হয় এটাকে স্পোর্টিং উইকেট বলা যায়। স্পিনাররা উইকেট পাচ্ছে, ব্যাটসম্যানরা রান করছে, পেসাররাও সহায়তা পাচ্ছে। এমন উইকেটে নিয়মিত খেলতে পারলে আমাদের জন্য ভালো হবে।’

ওয়ানডেতে কিছুটা খারাপ সময়ের মধ্যেই আছেন লিটন। টানা ১৪ ইনিংসে তার কোনো হাফ সেঞ্চুরি নেই। এই সিরিজের আগে টানা আট ম্যাচে সিঙ্গেল ডিজিটে আউট হয়েছিলেন তিনি। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ৩ রানে অপরাজিত থাকলেও দ্বিতীয় ম্যাচে দলের সর্বোচ্চ ৪১ রান করেন।

নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে লিটন বলেন, ‘দেখেন, কোনো ব্যাটসম্যানই সব সময় রান করতে পারে না। কিছু ম্যাচে আমারও সেভাবে রান হয়নি। তবে আমি যদি ইনিংসটা আরও গভীর পর্যন্ত নিতে পারতাম, তাহলে ভালো হতো। তখন রান ৪০ থাকলেও খুশি থাকতাম। কারণ একজন ব্যাটসম্যান হিসেবে আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো ম্যাচটা কতটা গভীর পর্যন্ত নিতে পারলাম।

একটা সময় আমার আর হৃদয়ের জুটিটা ভালো ছন্দে চলছিল। আমি যদি আরও সাত-আটটা ওভার খেলতে পারতাম, তাহলে ম্যাচের পরিস্থিতিটা ভিন্নও হতে পারত।’

ক্যারিয়ারে টপ অর্ডার থেকে শুরু করে মিডল অর্ডার দুই জায়গাতেই ব্যাট করেছেন লিটন। যদিও টপ অর্ডারেই তার সাফল্য বেশি, দলীয় সিদ্ধান্তে এখন তাকে মিডল অর্ডারে ব্যাট করতে হচ্ছে। 

নতুন ব্যাটিং পজিশন নিয়ে লিটন বলেন, ‘আপনি যে সময়ই নামুন না কেন, শুরুটা করতে হয় শূন্য থেকেই। তবে ওপেনিংয়ে নামলে সাধারণত একটা ধারণা থাকে, নতুন বল দুই প্রান্ত থেকেই পেসাররা করতে পারে, বা কোনো এক প্রান্তে স্পিনার আসতে পারে। কিন্তু মিডল অর্ডারে ব্যাট করা তুলনামূলকভাবে কঠিন। কারণ তখন ম্যাচের পরিস্থিতি কেমন থাকবে, তা আগে থেকে বোঝা যায় না। কখনো আট রানে দুই উইকেট পড়ে যেতে পারে, আবার কখনো ৩০ ওভারের পর ব্যাট করতে নামতে হয়।’

তবে কঠিন হলেও পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন লিটন, ‘আমি এসব পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। অনুশীলনেও দুই ধরনের অবস্থার কথা মাথায় রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছি, যেন যেকোনো পরিস্থিতিতে নেমে দলের জন্য অবদান রাখতে পারি।’

এমআই/টিকে

মন্তব্য করুন