ঠাকুরগাঁওয়ে নিয়োগ পরীক্ষার খাতা ছিনতাই, বিএনপির ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা
ছবি: সংগৃহীত
০৩:৫৭ পিএম | ১৪ মার্চ, ২০২৬
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মেদনিসাগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষার খাতা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দীনসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও ৩০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাতে কলেজটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদ বাদী হয়ে হরিপুর থানায় মামলাটি করেন। শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন হরিপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হাকিম আজাদ।
আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- হরিপুর উপজেলার বশলগাঁও এলাকার মৃত শামসুল হকের ছেলে ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দিন, ভবান্দপুর এলাকার মতিউর রহমানের ছেলে বিএনপি নেতা মোকলেসুর রহমান, তোররা এলাকার গোলাম মোস্তফার ছেলে বিএনপি নেতা এরফান আলী, ভবান্দপুর এলাকার মতিউর রহমানের ছেলে বিএনপি নেতা মো. ফারুক, ভটা মোহাম্মদের ছেলে মাসুদ রানা এবং মশানগাঁও এলাকার কুদ্দুস আলীর ছেলে মো. উজ্জ্বলসহ আরও কয়েকজন।
এর আগে শুক্রবার বিকেলে হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে মেদনিসাগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা শেষে উত্তরপত্র যাচাইয়ের সময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দীনসহ কয়েকজন নেতাকর্মী ইউএনও’র কক্ষে প্রবেশ করে হট্টগোল শুরু করেন পরীক্ষার খাতা নিয়ে যায়।
হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হানুল ইসলাম জানান, সব কার্যক্রম নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছিল। হঠাৎ করে কয়েকজন এসে তার কক্ষে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন এবং একপর্যায়ে মব সৃষ্টি করে নিরীক্ষকদের কাছ থেকে পরীক্ষার কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়ে যান।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দীন বলেন, নিয়োগ পরীক্ষায় টাকা লেনদেনের একটা বিষয় নিয়ে ইউএনও সাহেবকে অবগত করতে গিয়েছিলাম। এ সময় ইউএনও আমাদের কথা আমলে না নিলে আমাদের ছেলেরা কাগজপত্র নিয়ে চলে আসেন। পরবর্তীতে আবারো সেগুলো দিয়ে আসা হয়েছে।
মেদনিসাগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষ হারুনুর রশিদ বলেন, আয়া ও পরিছন্নতাকর্মী পদে আটজন লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। পরীক্ষা শেষে আমরা ইউএনও স্যারের রুমে বসেছিলাম। সেখান থেকে আমাদের সব কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়ে গেছেন। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য থানায় যাচ্ছি।
এ বিষয়ে হরিপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হাকিম আজাদ বলেন, মেদনিসাগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদ রাতে ওই ঘটনায় হরিপুর থানায় মামলা করেছেন। মামলার তদন্ত অব্যাহত আছে। যারা প্রকৃতপক্ষে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এমআই/টিকে