বাবা নচিকেতার সঙ্গে এক মঞ্চে গান গাইতে ভয় পান মেয়ে ধানসিড়ি?
ছবি: সংগৃহীত
০১:২১ পিএম | ১৬ মার্চ, ২০২৬
নচিকেতা চক্রবর্তীর পরিচয় বাংলা গানের জগতে বহুদিনের প্রতিষ্ঠিত এক নাম। তাঁর গান যেমন বহু প্রজন্মের শ্রোতার মনে জায়গা করে নিয়েছে, তেমনি ব্যক্তিজীবনের নানা প্রসঙ্গও সময় সময় আলোচনায় আসে। তবে এবার আলোচনার কেন্দ্রে তিনি নন, তাঁর কন্যা ধানসিড়ি চক্রবর্তী। দীর্ঘদিন ধরেই বাবার সঙ্গে মাঝেমধ্যে একই মঞ্চে গান গাইলেও নিজেকে আলাদা করে প্রচারের কেন্দ্রে আনতে চাননি ধানসিড়ি। সেই অবস্থানের কারণ নিয়েই মুখ খুলেছেন বাবা ও মেয়ে দুজনেই।
ধানসিড়ির কথায়, তিনি বরাবরই নিজের মতো করে থাকতে স্বচ্ছন্দ। পরিচিতির আলাদা আলোকে সামনে আনার চেয়ে ব্যক্তিগত পরিসরেই স্বাভাবিকভাবে পথ চলতে চান। তাঁর মতে, সংগীতের সঙ্গে সম্পর্কও তৈরি হয়েছে একান্ত নিজের অনুভব থেকে। ছোটবেলায় গানকে পেশা হিসেবে ভাবেননি, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সংগীত নিজেই তাঁর জীবনে জায়গা করে নেয়। এরপর নিজের ইচ্ছাতেই গান করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

এই প্রসঙ্গে নচিকেতা চক্রবর্তী জানান, কন্যাকে কখনও তাঁর পরিচয় ব্যবহার করতে দেখেননি। স্কুল, কলেজ কিংবা কর্মজীবন কোথাও নচিকেতার মেয়ে হিসেবে আলাদা সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেননি ধানসিড়ি। এমনকি বর্তমানে যে পেশায় তিনি রয়েছেন, সেখানেও নিজের যোগ্যতায় জায়গা করে নিয়েছেন। নচিকেতার ভাষায়, ধানসিড়ি স্বভাবতই কিছুটা লাজুক, তাই প্রচারের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে আগ্রহী নন।
পেশাগতভাবে ধানসিড়ি একজন শিক্ষিকা। শিক্ষকতার দায়িত্ব সামলে গান করেন তিনি। পরিবারের মতে, বর্তমান সময়ে কেবল গানকে নির্ভর করে স্থায়ীভাবে টিকে থাকা কঠিন, তাই একটি স্থায়ী পেশার গুরুত্ব রয়েছে। নচিকেতাও মনে করেন, মেয়ের শিক্ষকতার কাজই এখন বেশি সময় দাবি করে, ফলে সংগীতে পূর্ণ সময় দেওয়া সম্ভব হয় না।
তবে ব্যস্ততার মধ্যেও গান তাঁদের সম্পর্কের এক বিশেষ জায়গা দখল করে আছে। ছুটির দিনে বাবা-মেয়ে একসঙ্গে বসেন, গান শোনেন, নতুন সুরের খোঁজখবর ভাগ করে নেন। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বাবার সঙ্গে একই মঞ্চে গান গেয়ে ধানসিড়ি নতুন করে আলোচনায় আসেন। সেখানে তিনি গেয়েছেন বাবার জনপ্রিয় গানের অংশ। যদিও একক অনুষ্ঠানও করেন, তবু বাবার পাশে মঞ্চে উঠলে আলাদা এক চাপ কাজ করে বলে স্বীকার করেছেন তিনি।
ধানসিড়ি জানান, জীবনের প্রায় সব ক্ষেত্রে বাবার একটি উপদেশ তিনি মেনে চলার চেষ্টা করেন ধৈর্য ধরে এগিয়ে যাওয়া। পরিবার থেকেও কখনও তাঁর ওপর কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়নি। নিজের পছন্দ, নিজের গতিতেই তিনি পথ বেছে নিয়েছেন।
এই সংযত উপস্থিতি ও পরিচিতি থেকে দূরে থাকার মানসিকতাই ধানসিড়িকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। তারকাসন্তান হয়েও আলোচনার কেন্দ্র এড়িয়ে নিজের পরিচয় গড়ে তোলার এই প্রচেষ্টা এখন নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে সাংস্কৃতিক পরিসরে।
পিআর/টিকে