আজ কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী কবীর সুমনের জন্মদিন
ছবি: সংগৃহীত
০২:৪১ পিএম | ১৬ মার্চ, ২০২৬
বাংলা গানের ভুবনে এক স্বতন্ত্র ধারা নির্মাণ করে নিজের আলাদা অবস্থান তৈরি করেছিলেন কবীর সুমন। কথার ভেতরে জীবনের স্পন্দন, সময়ের টানাপড়েন, নাগরিক অনুভূতি আর সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের গল্প সব মিলিয়ে তাঁর গান নব্বইয়ের দশকে বাংলা সংগীতে এক নতুন পর্বের সূচনা করেছিল। আজ এই শিল্পীর জন্মদিন। ১৯৪৯ সালের এই দিনে জন্ম নেওয়া কবীর সুমন এখনও বাংলা সংগীতচর্চায় আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ নাম।
গানের জগতে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার আগে তিনি যুক্ত ছিলেন সাংবাদিকতার সঙ্গে। সংবাদমাধ্যমে কাজের অভিজ্ঞতা তাঁর লেখনী ও দৃষ্টিভঙ্গিকে গভীর করেছে বলে মনে করেন অনেকে। সমাজ, রাজনীতি, মানুষ ও সময়কে কাছ থেকে দেখার সেই অভিজ্ঞতা পরবর্তী সময়ে তাঁর গানেও স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।

১৯৯২ সালে প্রকাশিত ‘তোমাকে চাই’ অ্যালবাম বাংলা আধুনিক গানের ইতিহাসে একটি মোড় ঘোরানো ঘটনা হিসেবে ধরা হয়। সেই অ্যালবামের মাধ্যমে বাংলা গানে তৈরি হয় নতুন ভাষা, নতুন সুরবিন্যাস এবং ব্যক্তিগত উচ্চারণের এক ভিন্ন ভুবন। প্রেম, নিঃসঙ্গতা, নাগরিক ক্লান্তি, প্রতিবাদ সবকিছুই সেখানে উঠে আসে সরল অথচ গভীর কথায়। সেই সময়ের শ্রোতারা বাংলা গানে এক নতুন কণ্ঠস্বর খুঁজে পান।
কবীর সুমনের গানের বিশেষত্ব ছিল সাধারণ মানুষের অনুভূতিকে খুব কাছ থেকে তুলে ধরা। তাঁর গানে শহরের রাস্তাঘাট যেমন এসেছে, তেমনি এসেছে মানুষের আশা, অভাব, ক্ষোভ, প্রত্যাশা ও দৈনন্দিন জীবনসংগ্রাম। এ কারণেই তাঁর গান কেবল সুরের জন্য নয়, বক্তব্যের শক্তির জন্যও আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে।
দীর্ঘ সংগীতজীবনের নানা পর্যায় পেরিয়ে বর্তমানে তিনি বাংলা খেয়াল নিয়ে কাজ করছেন। ধ্রুপদি সংগীতের এই শাখাকে বাংলা ভাষার ভেতরে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা তাঁর সাম্প্রতিক কাজের বড় অংশ জুড়ে রয়েছে। সংগীতের ভাষা বদলালেও অনুসন্ধিৎসু শিল্পীসত্তা এখনও সক্রিয় রয়েছে তাঁর মধ্যে।
বাংলা গানের ইতিহাসে কবীর সুমনের নাম উচ্চারিত হয় এমন একজন শিল্পী হিসেবে, যিনি গানকে শুধু বিনোদনের জায়গায় রাখেননি; বরং সময় ও সমাজের ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন।
পিআর/টিকে