© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

হরমুজ প্রণালি উদ্ধারের আহ্বানে সাড়া না পেয়ে কী বললেন ট্রাম্প?

শেয়ার করুন:
হরমুজ প্রণালি উদ্ধারের আহ্বানে সাড়া না পেয়ে কী বললেন ট্রাম্প?

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৮:৫৬ এএম | ১৭ মার্চ, ২০২৬
ইরানের কারণে বিশ্বের তেল পরিবহণের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সেটি নিরাপদ করতে বিভিন্ন দেশকে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই আহ্বানে বিভিন্ন দেশ ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তবে বেশিরভাগ দেশ থেকেই ইতিবাচক সাড়া পাননি ট্রাম্প। খবর সিএনএনের। 

দেশগুলোর সাড়া দেওয়া বিষয়ে পরে ট্রাম্প বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি সংকট মোকাবিলায় অনেক দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করতে এগিয়ে আসছে।’ 

যদিও তিনি কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেননি। 

মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষ্য, ‘অনেক দেশ আমাকে জানিয়েছে যে, তারা আসছে। কিছু দেশ এ বিষয়ে খুবই উৎসাহী, আবার কিছু দেশ ততটা নয়। কিছু দেশ এমনও আছে যাদের আমরা বহু বছর ধরে সাহায্য করেছি। আমরা তাদের বাইরের ভয়াবহ হুমকি থেকে রক্ষা করেছি, কিন্তু তারা খুব একটা উৎসাহ দেখাচ্ছে না। আর তাদের এই উৎসাহের মাত্রা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।’

এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা যদি হরমুজ প্রণালি নিরাপদ করতে সহায়তা না করে, তাহলে ন্যাটোর ভবিষ্যৎ ‘খুব খারাপ’ হতে পারে।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘আশা করি চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্য এবং অন্যরা, যারা এই কৃত্রিম সীমাবদ্ধতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তারা ওই অঞ্চলে জাহাজ পাঠাবে। এর ফলে হরমুজ প্রণালি আর এমন একটি জাতির দ্বারা হুমকির মুখে থাকবে না যা সম্পূর্ণভাবে নেতৃত্বহীন হয়ে পড়েছে।’

ইউরোপীয় ইউনিয়ননের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান কাজা কালাস জানান, হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা ইউরোপের স্বার্থে। তবে তিনি এটাও উল্লেখ করেন, এটি ন্যাটোর কার্যক্রমের আওতার বাইরে এবং প্রণালী এলাকায় কোনো ন্যাটো দেশ নেই।

জার্মানির এক সরকারি মুখপাত্র বলেন, ‘এই যুদ্ধের সঙ্গে ন্যাটোর কোনো সম্পর্ক নেই এবং এটি ন্যাটোর যুদ্ধ নয়। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়াডেফুল জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে ন্যাটো সদস্যদের কোনো ভূমিকা তিনি দেখছেন না।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার জানিয়েছেন, তার দেশ মিত্রদের সঙ্গে মিলে এমন একটি কার্যকর যৌথ পরিকল্পনা তৈরির চেষ্টা করছে, যাতে দ্রুত ওই অঞ্চলে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার করা যায় এবং এর অর্থনৈতিক প্রভাব কমানো সম্ভব হয়।

অস্ট্রেলিয়াকে যদিও ট্রাম্প সরাসরি অনুরোধ করেননি, তবু অস্ট্রেলিয়ার পরিবহনমন্ত্রী জানিয়েছেন, তাদের দেশ হরমুজ প্রণালিতে কোনো জাহাজ পাঠানোর পরিকল্পনা করছে না।

হরমুজ প্রণালি উদ্ধারে ইরানের মিত্র হিসেবে পরিচিত চীনকেও আহ্বান জানাতে ছাড়েননি ট্রাম্প। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অনুরোধ পেয়েছে কিনা, এ প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়ে বলেন, ‘সব পক্ষের উচিত অবিলম্বে সামরিক পদক্ষেপ বন্ধ করা, উত্তেজনা না বাড়ানো এবং আঞ্চলিক অস্থিরতা যেন বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় প্রভাব না ফেলে তা নিশ্চিত করা।’

এদিকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি সংসদে জানিয়েছেন, আপাতত হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।


ইউটি/টিএ

মন্তব্য করুন