ইরানের প্যারামিলিটারি সংগঠন বাসিজ ফোর্সের প্রধান গোলামরেজা সোলাইমানি নিহত
ছবি: সংগৃহীত
০২:২৩ এএম | ১৮ মার্চ, ২০২৬
ইরানের প্যারামিলিটারি সংগঠন বাসিজ ফোর্সের কমান্ডার গোলামরেজা সোলাইমানি নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে ইরান। দেশটির ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে জানিয়েছে, তিনি যুক্তরাষ্ট্র-ইহুদিবাদী শত্রুদের হামলায় নিহত হয়েছেন। খবর তাসনিম নিউজের।
এর আগে গত মঙ্গলবার ইসরায়েল দাবি করেছিল, তাদের অভিযানে গোলামরেজা সোলাইমানি নিহত হয়েছেন। তবে ওই সময় ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি।
পরবর্তীতে আইআরজিসি জানায়, গোলামরেজা সোলাইমানি সত্যিই নিহত হয়েছেন। তিনি গত ছয় বছর ধরে বাসিজ ফোর্সের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই হত্যাকাণ্ডের জবাব দেয়া হবে এবং এর প্রতিশোধ নেয়া হবে।
বাসিজ ফোর্স ইরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্যারামিলিটারি বাহিনী, যা ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের অধীনে পরিচালিত হয় এবং দেশটির নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
পরমাণু ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলাকালে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হঠাৎ যৌথ হামলা চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনিসহ দেশটির বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। এরপর বদলা নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে ইরান। তেহরান প্রতিশোধ হিসেবে ইসরায়েলের ভূখণ্ডে ও মধ্যপ্রাচ্যের সব মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। পাল্টা হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রও।
চলমান এই যুদ্ধ কতদিন চলবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। যুদ্ধের ফলে বিশ্ব অর্থনীতি দিনদিন বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়ছে। বিশেষ করে তেলের দাম প্রতিদিন বেড়েই চলেছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৩ জুন ইরানের পরমাণু স্থাপনা ও ড্রোন সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় ইসরাইল। যুক্তরাষ্ট্রও সেই অভিযানে অংশ নেয়। সেসময় ইরানের তিনটি প্রধান পরমাণু কেন্দ্রে আঘাতের দাবি করে পেন্টাগন।
১২ দিনের সংঘাত শেষে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হলেও পারস্পরিক অবিশ্বাস চরমে পৌঁছে যায়। সেই যুদ্ধ-পরবর্তী উত্তেজনাই এ বছরের সংকটের ভিত গড়ে দেয়।
এসকে/টিকে