ন্যাটো দেশগুলোর সহায়তা আমাদের প্রয়োজন নেই, বললেন ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত
০২:৫৪ এএম | ১৮ মার্চ, ২০২৬
হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিতে মার্কিন মিত্র ও অন্যান্য দেশগুলোকে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর ব্যর্থ আহ্বানের পর এবার পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মঙ্গলবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ স্যোশালে দেওয়া এক পোস্টে ন্যাটোর তীব্র সমালোচনা ও ইরানের সামরিক বাহিনীকে ধ্বংস করে দেওয়ার দাবি করেছেন তিনি।
পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছেন, আমাদের ন্যাটোর বেশিরভাগ ‘মিত্র’ দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে, ‘‘তারা ইরানের শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আমাদের সামরিক অভিযানে যুক্ত হতে চায় না।’’
তবে তিনি বলেছেন, প্রায় প্রতিটি দেশই ইরানের বিরুদ্ধে আমাদের পদক্ষেপের সঙ্গে জোরালোভাবে একমত ছিল। ন্যাটো ও পশ্চিমা মিত্রদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, ‘‘আমরা তাদের রক্ষা করব, কিন্তু বিশেষ প্রয়োজনের সময় তারা আমাদের জন্য কিছুই করবে না।’’
এ সময় মার্কিন এই প্রেসিডেন্ট আবারও ইরানের সামরিক বাহিনী এবং নেতৃত্বকে ‘‘নিশ্চিহ্ন’’ করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘‘যেহেতু আমরা সামরিকভাবে অনেক বড় সাফল্য পেয়েছি, তাই আমাদের আর ন্যাটো দেশগুলোর সহায়তার ‘প্রয়োজন’ নেই এবং আমরা তা প্রত্যাশাও করি না। আমাদের কখনও তাদের প্রয়োজন ছিলও না!’’
এর আগে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তায় মিত্র দেশগুলোকে যুদ্ধজাহাজ ও নৌসেনা পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে মার্কিন মিত্র ও ইউরোপের প্রায় সব দেশই তার সেই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইউরোপের দেশগুলোর জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ২৭টি সদস্যরাষ্ট্র সোমবার বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ইইউর সদরদপ্তরে এ ইস্যুতে বৈঠক করে। বৈঠক শেষে ইইউর পররাষ্ট্রনীতি বিভাগের প্রধান কাজা কাল্লাস এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, এই উন্মুক্ত যুদ্ধ নিয়ে ইউরোপের কোনও আগ্রহ নেই এবং ইইউর কোনও সদস্যরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে কোনও ধরনের সামরিক পদক্ষেপে সক্রিয়ভাবে সংশ্লিষ্ট হতে ইচ্ছুক নয়।
কাজা কাল্লাসের বক্তব্যের প্রতিধ্বনি পাওয়া যায় ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আন্তোনিও তাজানির কণ্ঠেও। ইইউর বৈঠক পরবর্তী ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নৌবাহিনীর মিশনগুলো বর্তমানে বিভিন্ন সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দিচ্ছে এবং জলদস্যু বিরোধী অভিযান পরিচালনা করছে। সেসব দায়িত্ব ছেড়ে এই মুহূর্তে মিশনগুলোর পক্ষে হরমুজে আসা সম্ভব নয়।
‘‘যদি সম্ভব হতো, তাহলে আমরা অবশ্যই হরমুজ প্রণালিতে আমাদের নৌসেনা-যুদ্ধজাহাজ পাঠাতাম। কিন্তু এই মুহূর্তে তা সম্ভব নয়। ইইউর নৌবাহিনীর মিশনগুলো বিভিন্ন সাগরে তাদের দায়িত্ব পালন করছে।’’
এমআর/টিএ