© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

চাপ থাকলেও ঈদযাত্রায় স্বস্তি ঘরমুখো মানুষের

শেয়ার করুন:
চাপ থাকলেও ঈদযাত্রায় স্বস্তি ঘরমুখো মানুষের

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১০:১৮ এএম | ১৮ মার্চ, ২০২৬
টানা সাত দিনের ঈদের ছুটি শুরু হয়েছে মঙ্গলবার থেকে। সোমবার রাত থেকেই নাড়ির টানে বাড়ির পথে রওনা হন কর্মজীবী মানুষ। মঙ্গলবার সড়ক, রেল ও নৌপথে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় থাকলেও বড় ধরনের ভোগান্তির খবর নেই। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আজ বুধবার যাত্রীর চাপ আরও বাড়বে, কারণ এ দিনই সবচেয়ে বেশি মানুষ ঢাকা ছাড়বেন।

 দীর্ঘ ছুটির সুযোগ থাকায় এবারের ঈদযাত্রা আগেরবারের তুলনায় অনেকটাই স্বস্তিদায়ক। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে এবার সড়ক, রেল ও নৌপথে প্রায় দেড় কোটি মানুষ রাজধানী ছাড়বেন বলে ধারণা করা হচ্ছে ।

এবারের ঈদযাত্রা শুরু হয় গত শুক্রবার থেকেই। ভোগান্তি এড়াতে অনেকে প্রথম দিকেই পরিবারের সদস্যদের গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। শবেকদরের ছুটির সঙ্গে অতিরিক্ত একদিন ছুটি মিলিয়ে বহু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী সোমবারই রওনা হন। শিক্ষার্থীসহ অনেকেই প্রথম চার দিনের মধ্যেই বাড়ি ফিরে গেছেন। এরপর মঙ্গলবার সরকারি ছুটি শুরু হলে সরকারি চাকরিজীবীরাও যাত্রায় যোগ দেন। ফলে চাপ বাড়লেও সড়ক, রেল ও নৌপথে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা যায়নি।

পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে সড়ক, রেল ও নৌপথে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় ছিল। এদিন সাধারণ যাত্রীর তুলনায় রাজধানীর কর্মজীবী মানুষের ভিড় ছিল অনেক বেশি। টানা সাতদিনের ছুটি শুরু হওয়ায় সরকারি ও আধা-সরকারি অফিস-আদালতের চাকরিজীবীরা বাড়ি ফিরছেন। তবে ট্রেন ও লঞ্চে যাত্রীদের চাপ দেখা গেলেও বাসে তেমনটা দেখা যায়নি। গাবতলী বাস টার্মিনালে হাঁকডাক দিয়ে যাত্রী খুঁজতেও দেখা যায়।

বাস কাউন্টার সংশ্লিষ্টরা জানান, লম্বা ছুটি থাকায় নারী-শিশুসহ অধিকাংশ মানুষ গত চারদিনে ঢাকা ছেড়েছেন। মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে কর্মজীবীদের বাড়ি ফেরার পালা। বাড়িমুখো মানুষের বড় একটি অংশ ট্রেনে এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ১৮ জেলার মানুষ পদ্মা সেতু হয়ে বাড়ি ফেরায় গাবতলী বাস টার্মিনালে যাত্রী সংকট তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে সায়েদাবাদ ও মহাখালীর বাস টার্মিনাল কাউন্টারের টিকিট বিক্রয়কর্মীরা জানান, যেভাবে এই দুই বাস টার্মিনালে যাত্রীর চাপ তৈরি হওয়ার কথা মঙ্গলবার, তেমনটা দেখা যায়নি। ফলে নির্বিঘ্নেই বাড়ির পথে রওনা হতে পারছেন যাত্রীরা। এবারের ঈদযাত্রার শুরুটা স্বস্তিদায়ক ও ভোগান্তিহীন বলেই মনে করছেন যাত্রীরা। আজহারুল ইসলাম নামে একজন যাত্রী বলেন, এবার ঘরমুখো মানুষের চাপ তুলনামূলক কম থাকায় স্বস্তি মিলছে। দীর্ঘ ছুটি থাকায় আমার মতো অনেকেই পরিবারের সদস্যদের আগেভাবে বাড়ি পাঠিয়েছেন। ফলে চাপ কমে গেছে।

প্রতিবার ঈদযাত্রা শুরু হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-বগুড়া, ঢাকা-সিলেটসহ বিভিন্ন মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। কিন্তু এবার মহাসড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ থাকলেও তেমন যানজটের খবর পাওয়া যায়নি। ফলে যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে না। তবে আজ সবচেয়ে বেশি যাত্রী ঢাকা ছাড়ায় কিছুটা ভোগান্তি হতে পারে বলে শঙ্কার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে প্রতিদিন প্রায় ৬০-৬৫ হাজার যাত্রী দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ঢাকা ছাড়ছেন। এবারের ঈদযাত্রায় ট্রেনে গতকাল পর্যন্ত স্বস্তি লক্ষ করা গেছে। যাত্রীর চাপ বাড়তে থাকায় অতিরিক্ত ট্রেন, কোচ সংযোজন ও কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। জানা গেছে, সোমবার বিকাল থেকে যাত্রীর চাপ বাড়তে থাকে, গতকাল স্টেশনে ব্যাপক ভিড় দেখা গেছে। আজ ও আগামীকাল এই চাপ আরো বাড়বে বলে জানান রেল কর্মকর্তারা।

এদিন সকালে সংবাদ সম্মেলনে কমলাপুর রেলস্টেশনের স্টেশন ম্যানেজার সাজেদুল ইসলাম বলেন, ঈদযাত্রার পঞ্চম দিনে ঢাকা স্টেশন থেকে মোট ৪৪টি আন্তঃনগর ট্রেন বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। ২১টি ট্রেন ইতোমধ্যে ছেড়ে গেছে। এর মধ্যে শুধু নীলসাগর এক্সপ্রেস ৪৫ মিনিট বিলম্বে ছেড়েছে, বাকি ট্রেনগুলো নির্ধারিত সময়েই চলাচল করছে।

তিনি জানান, আসা-যাওয়া মিলিয়ে ৪৪ জোড়া ট্রেন চলাচল করছে। আর ঈদ উপলক্ষে পাঁচ জোড়া স্পেশাল ট্রেন চালু করা হয়েছে। এর মধ্যে ঈদের দিনে দুই জোড়া এবং বাকি তিন জোড়া ট্রেন ইতোমধ্যে চলাচল শুরু করেছে। পাশাপাশি যাত্রীদের চাপ সামাল দিতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনে ব্রডগেজ ও মিটারগেজে অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করা হয়েছে।

সরকারি ছুটির প্রথম দিন গতকাল প্রধান নদীবন্দর সদরঘাটে ঘরমুখো মানুষের চাপ বেড়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, ঘরমুখো যাত্রীদের ভিড় বাড়ছে। রাজধানীর যানজট এড়াতে অনেকেই আগেভাগে ঘাটে এসে উপস্থিত হয়েছেন। কেউ লঞ্চের টিকিট সংগ্রহ করছেন, আবার কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে নির্ধারিত সময়ে লঞ্চে ওঠার অপেক্ষায় ঘাট এলাকায় অবস্থান করছেন। এদিকে মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, চাঁদপুরসহ স্বল্প দূরত্বের যাত্রীরা নির্দিষ্ট লঞ্চে করে নিজ নিজ গন্তব্যে রওনা হচ্ছেন। আর বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি ও পিরোজপুরসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার যাত্রীরা আগেভাগেই এসে টিকিট নিশ্চিত করছেন।

গতকাল শিমুলিয়া ট্যুরিস্ট ঘাট পরিদর্শনে গিয়ে নৌপথে ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন নৌ প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যময় ও নির্বিঘ্ন নৌযাত্রা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বিশেষ করে যাত্রীদের ভিড় নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সার্বিক সেবার মান উন্নয়নে সংশ্লিষ্টদের আরো সক্রিয়ভাবে কাজ করার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।

এ সময় নৌ প্রতিমন্ত্রী শিমুলিয়া ট্যুরিস্ট ঘাটে লঞ্চ চলাচলের উদ্বোধন করেন। তিনি শিমুলিয়া ট্যুরিস্ট ঘাট থেকে শিমুলিয়া-ডেমরা-নারায়ণগঞ্জ-ষাটনল-মোহনপুর-এখলাসপুর-চাঁদপুর এবং শিমুলিয়া-ডেমরা-নারায়ণগঞ্জ-চাঁদপুর-বরিশাল নৌপথে তিনটি যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল উদ্বোধন করেন।

‎পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সাতদিনের সরকারি ছুটি। টানা এই ছুটিতে কেবল ঈদের দিন রাজধানী ঢাকায় মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ থাকবে। গত সোমবার ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) পরিচালক (প্রশাসন) একেএম খায়রুল আলম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই তথ্য জানানো হয়।

ডিএমটিসিএল আরো জানিয়েছে, ঈদের পরদিন থেকে যথারীতি নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী মেট্রোরেল চলাচল পুনরায় শুরু হবে। ঈদ উপলক্ষে যাত্রীদের যাতায়াত পরিকল্পনা আগেভাগে নির্ধারণ করার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

স্বাভাবিক নিয়মে গতকাল মঙ্গলবার পবিত্র শবেকদরের সরকারি ছুটি ছিল। এর সঙ্গে বৃহস্পতিবার থেকে আগামী সোমবার পর্যন্ত টানা পাঁচদিন ঈদের ছুটি থাকছে। বুধবার অফিস খোলা থাকার কথা থাকলেও নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করে সরকার। ফলে টানা সাতদিনের ছুটি মিলেছে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২০ বা ২১ মার্চ দেশে পালিত হবে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। ২৪ মার্চ খুলবে সরকারি অফিস, আদালত, ব্যাংক-বিমাসহ সরকারি-বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান।

কেএন/এসএন


মন্তব্য করুন