ঈদুল ফিতর / ৬৪ শতাংশ কারখানায় অগ্রিম বেতন, চলছে ধাপে ধাপে ছুটি
ছবি: সংগৃহীত
০৩:৪৫ পিএম | ১৮ মার্চ, ২০২৬
আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও ছুটি ব্যবস্থাপনায় স্বস্তির চিত্র দেখা যাচ্ছে। আইনগত বাধ্যবাধকতা না থাকলেও ইতোমধ্যে ৬৪.০৩ শতাংশ কারখানা মার্চ মাসের আংশিক বেতন অগ্রিম প্রদান করেছে। একই সঙ্গে ধাপে ধাপে ছুটি ঘোষণার ফলে শ্রমিকদের ঘরমুখো যাত্রা আরও সহজ ও স্বস্তিদায়ক হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৭ মার্চ পর্যন্ত প্রায় ৫০ শতাংশ কারখানায় ঈদের ছুটি শুরু হয়েছে।
বাকি কারখানাগুলোও আজ ও আগামীকালের মধ্যে ছুটি ঘোষণা করবে। এতে একযোগে অতিরিক্ত চাপ কমে মহাসড়কে যানজট ও ভোগান্তি হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস পরিশোধের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন পরিশোধ করেছে ৯৯.৯১ শতাংশ কারখানা এবং ঈদ বোনাস প্রদান সম্পন্ন হয়েছে ৯৯.৮১ শতাংশ কারখানায়। অবশিষ্ট অল্পসংখ্যক কারখানায় বেতন ও বোনাস পরিশোধের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ, রপ্তানি আয় হ্রাস, জ্বালানি সংকট ও ব্যাংকিং খাতের তারল্য সমস্যার মধ্যেও উদ্যোক্তারা শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত তহবিল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেও শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ নিশ্চিত করা হয়েছে।
এক্ষেত্রে সরকারের সময়োচিত পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা প্রদান এবং দ্রুত নগদ সহায়তা ছাড় করায় কারখানাগুলোর তারল্য সংকট অনেকটাই কমেছে।
একই সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্ক নজরদারি এবং শিল্পাঞ্চলে সার্বিক সমন্বয়ের ফলে পরিস্থিতি শান্ত ও স্থিতিশীল রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, অগ্রিম বেতন প্রদান এবং ধাপে ধাপে ছুটি ঘোষণার এই উদ্যোগ শ্রমিকদের ঈদযাত্রা নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করতে সহায়ক হবে। এতে করে একদিকে যেমন শ্রমিকরা সময়মতো পরিবারের কাছে পৌঁছাতে পারবেন, অন্যদিকে সড়কপথে অতিরিক্ত চাপও কমবে।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে শিল্পাঞ্চলে কোনো ধরনের অস্থিরতা তৈরি হবে না এবং সামগ্রিকভাবে স্বস্তির পরিবেশ বজায় থাকবে।
ইউটি/টিকে