দিলজিতেৎ-এর 'বিতর্কিত' মিউজিক্যাল ট্যুরে ১.২ লক্ষ কর্মসংস্থান!
ছবি: সংগৃহীত
০৫:১০ পিএম | ১৮ মার্চ, ২০২৬
বিতর্ক, নিষেধাজ্ঞা আর সমালোচনার ভেতর দিয়েই গত বছর দেশের এক শহর থেকে আরেক শহরে গিয়েছিল দিলজিৎ দোসাঞ্জ এর সঙ্গীত সফর। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই সফরই এখন আলোচনায় অর্থনৈতিক সাফল্যের এক বড় উদাহরণ হিসেবে। নতুন সমীক্ষা বলছে, তাঁর ‘দিল-লুমিনাটি’ সফর শুধু দর্শক টানেনি, দেশের বিনোদনভিত্তিক অর্থনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলেছে।
দেশের তেরোটি শহরে আয়োজিত হয়েছিল এই সঙ্গীত সফরের চৌদ্দটি আয়োজন। প্রতিটি মঞ্চেই ছিল দর্শকের ভিড়, উচ্ছ্বাস আর দীর্ঘ প্রস্তুতি। সব মিলিয়ে তিন লক্ষ কুড়ি হাজারের বেশি মানুষ সরাসরি উপস্থিত ছিলেন এসব আয়োজনে। শুধু রাজধানী দিল্লির অনুষ্ঠানেই উপস্থিত ছিলেন প্রায় পঞ্চান্ন হাজার দর্শক, যা সফরের সবচেয়ে বড় সমাগম হিসেবে ধরা হচ্ছে।
সমীক্ষা অনুযায়ী, টিকিট বিক্রি থেকেই আয় হয়েছে দুই শত একুশ কোটি টাকা। এর বাইরে পৃষ্ঠপোষকতা থেকে এসেছে আরও তেত্রিশ কোটি টাকা। কিন্তু আসল বিস্ময় তৈরি হয়েছে মঞ্চের বাইরের অর্থনীতিতে। দর্শকদের যাতায়াত, থাকা, খাবার, কেনাকাটা এবং আনুষঙ্গিক ব্যয়ে মোট পাঁচ শত তিপ্পান্ন কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। সব মিলিয়ে এই সফর থেকে দেশে মোট নয় শত তেতাল্লিশ কোটি টাকার ব্যবসা হয়েছে, যার মধ্যে একশো চৌদ্দ কোটি টাকা এসেছে কর হিসেবে।

এই সাফল্যের সঙ্গে জড়িয়ে আছে কর্মসংস্থানের বড় হিসাবও। পরিবহন, নিরাপত্তা, মঞ্চ নির্মাণ, ব্যবস্থাপনা, আলোকসজ্জা, শব্দব্যবস্থা এবং প্রযোজনার নানা স্তরে প্রায় এক লক্ষ বিশ হাজার মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফলে একটি সঙ্গীত সফর যে কত বিস্তৃতভাবে নানা পেশাকে স্পর্শ করতে পারে, সেই বাস্তবতাই সামনে এসেছে নতুন করে।
যে সফর নিয়ে একসময় আপত্তি উঠেছিল গানের কথাকে ঘিরে, সেই সফরই এখন আলোচনায় অন্য কারণে। কয়েকটি গানের ভাষা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, কিছু রাজ্যে অনুষ্ঠান নিয়েও বাধা এসেছিল। তবু সেই বিতর্ক পেরিয়ে দর্শকের আগ্রহ কমেনি।
দিলজিৎ নিজেও এই সাফল্যকে শুধু ব্যক্তিগত অর্জন হিসেবে দেখছেন না। তাঁর ভাষায়, মঞ্চের সামনে যতটা দেখা যায়, তার চেয়ে বড় গল্প লুকিয়ে থাকে মঞ্চের পেছনে। সঙ্গীত যে শুধু বিনোদন নয়, তা মানুষকে একত্র করে, অনুপ্রাণিত করে এবং বহু মানুষের জীবিকার সঙ্গে যুক্ত হয় এই সফর সেই কথাই প্রমাণ করেছে।
সমীক্ষায় আরও উঠে এসেছে, বড় শহরের বাইরেও বিপুল সংখ্যক মানুষ এই অনুষ্ঠান দেখতে এসেছিলেন। গ্রাম, শহরতলি এবং দূরের অঞ্চল থেকে আসা দর্শকদের বড় অংশ অনুষ্ঠান ঘিরে নিজেদের সফরের সময়ও বাড়িয়েছেন। ফলে সংশ্লিষ্ট শহরগুলোর পর্যটন খাতেও এর প্রভাব পড়েছে।
এক সময়ের বিতর্কিত সঙ্গীত সফর এখন তাই দেশের বিনোদন শিল্পে এক নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। অনেকের চোখে, এই সফর শুধু মঞ্চ কাঁপায়নি, বহু মানুষের জীবিকাতেও আলো জ্বেলেছে।
পিআর/টিকে