© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে চীনে অফিস খুলছে বিডা

শেয়ার করুন:
বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে চীনে অফিস খুলছে বিডা

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৮:৪৬ পিএম | ১৮ মার্চ, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ১৮০ দিনের যে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে বিডা, তার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) আগামী ছয় মাসের মধ্যে চীনে তাদের প্রথম বিদেশি কার্যালয় চালু করতে যাচ্ছে। চীন থেকে সরে আসা বিনিয়োগের একটি অংশ আকর্ষণ এবং উৎস পর্যায়েই বিনিয়োগ-সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের জটিলতাগুলো সমাধানের লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ১৮০ দিনের যে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে বিডা, তার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে চীনে শ্রম ব্যয় বৃদ্ধি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের পুনর্বিন্যাসের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ নিজেকে সম্ভাবনাময় গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে।

বিডা কর্মকর্তারা জানান, প্রস্তাবিত এই কার্যালয়ে চীনা নাগরিকদের নিয়োগ দেওয়া হবে, যাতে তারা সরাসরি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারেন, তাৎক্ষণিকভাবে তাদের প্রশ্নের সমাধান দিতে পারেন এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন ঢাকার সদর দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করতে পারেন। এ বিষয়ে প্রস্তাব ইতোমধ্যে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে।

বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেন, "আগামী ছয় মাসের মধ্যেই চীনে বিডার অফিস খোলা হবে। এর মাধ্যমে আমরা বিনিয়োগকারীদের কনসার্নগুলোর বিষয়ে দ্রুত সাড়া দিতে পারব এবং তাদের মধ্যে বাংলাদেশ সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি হবে।

চীনে বিডা অফিস স্থাপিত হলে বাংলাদেশে কি পরিমাণ চীনা বিনিয়োগ আসতে পারে, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, চীনা ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী এবং তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগ পরিবেশ সম্পর্কেও জানতে চান। তবে অফিস স্থাপনের ফলে চীনা বিনিয়োগ কি পরিমাণ বাড়বে, সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।

১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় অবকাঠামোখাতে ১৩টি অগ্রাধিকার চিহ্নিত করেছে বিডা, যার মধ্যে শীর্ষে রয়েছে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চাইনিজ ইকোনমিক জোন বাস্তবায়ন প্রকল্পটি। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশে চীনা বিনিয়োগে বড় ধরণের উল্লম্ফন হবে বলে আশা করছে বিডা।

তবে ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, শুধু বিদেশে কার্যালয় খুললেই বড় পরিসরের বিনিয়োগ আসবে না, দেশের ভেতরে সমান্তরাল সংস্কারও প্রয়োজন। তারা বলছেন, চীনা বিনিয়োগকারীরা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নয়ন চান, ব্যাংকিংখাতের সমস্যাগুলো দূর করা, প্রতিবছর মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ও শুল্ক ব্যবস্থায় পরিবর্তন চান না তারা। এসব নিশ্চিত করা সম্ভব হলে বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ বাড়বে।

বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিসিসিআই)-এর সাবেক মহাসচিব আল মামুন মৃধা টিবিএসকে বলেন, বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে প্রায় দেড় বছর আগে থেকে চীনে বিডার অফিস স্থাপনসহ চীনের সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সেবা দিতে কম্প্রেনসিভ সার্ভিস নিশ্চিত করতে আমরা বিডা'কে প্রস্তাব করেছি। চীনে বিডা অফিসের মধ্যে বেইজিংয়ে নিযুক্ত বাংলাদেশের কমার্শিয়াল কাউন্সিলের একটি ডেস্ক এবং বিসিসিসিআই এর জন্য একটি ডেস্ক রাখার প্রস্তাব করা হয়েছিল।

''বিডা অফিস বিডার চাহিদা অনুযায়ী লাইসেন্স প্রদানসহ সরকারের ডকুমেন্ট পেতে সহযোগিতা করবে। কিন্তু কমাশির্য়াল কাউন্সিলর ও চেম্বারের ডেস্ক থাকলে তারা বিটুবি কানেকশন সৃষ্টির মাধ্যমে জয়েন্ট ভেঞ্চার বিনিয়োগ আনা, বিনিয়োগের পর অপারেশনে সহায়তা করার মাধ্যমে চীনা বিনিয়োগ আকৃষ্টের সুযোগ বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারতো''- জানান তিনি।
আল-মামুন মৃধা বলেন, যেসব দেশ চীনের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষর করেছে, সেসব দেশে চীনের বিনিয়োগ অনেক বেড়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের এফটিএ স্বাক্ষরের আলোচনা হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে থেমে আছে, যা শুরু করা প্রয়োজন।

বিডা'র বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত ছয় বছরে বাংলাদেশে বেসরকারি এফডিআই এর ক্ষেত্রে সৌদি আরবের পরেই চীনের অবস্থান। এই সময়ে চীনের মূল ভূখণ্ড থেকে বিনিয়োগ এসেছে ৪.৩৮ বিলিয়ন ডলার এবং হংকং থেকে বিনিয়োগ এসেছে ১৭৩ মিলিয়ন ডলার। চীনের বেসরকারিখাতের বিনিয়োগের বড় অংশই এসেছে বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও বস্ত্রখাতে।

২০২৫ সালে তিনটি চীনা কোম্পানি বাংলাদেশের টেক্সটাইল, অ্যাপারেলস ও ম্যানুফ্যাকচারিংখাতে ৩২২ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ নিশ্চিত করেছে। এর মধ্যে হংকংভিত্তিক হোন্ডা ইন্ডাস্ট্রিজ ২৫০ মিলিয়ন ডলার, কিয়াশি গ্রুপ ৪০ মিলিয়ন ডলার ও চায়না ল্যাসো গ্রুপ ৩২ দশমিক ৭৭ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হংকংসহ চীন থেকে বাংলাদেশে মোট প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলার। ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে বাংলাদেশে মোট এফডিআই স্টকের পরিমাণ ১৮.৯৫ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে চীনা এফডিআই স্টকের হার ৮ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

আইকে/টিকে

মন্তব্য করুন