© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকদের লোকেশন ডেটা কিনছে এফবিআই

শেয়ার করুন:
যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকদের লোকেশন ডেটা কিনছে এফবিআই

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১১:৩৭ এএম | ১৯ মার্চ, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) আবারও দেশটির সাধারণ নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য কেনা শুরু করেছে। বিশেষ করে নাগরিকদের বর্তমান অবস্থান বা লোকেশন ডেটা সংগ্রহের বিষয়টি সামনে আসায় নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার মার্কিন আইনপ্রণেতাদের সামনে উপস্থিত হয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল। তিনি জানান, বিভিন্ন ফেডারেল তদন্তে সহায়তার জন্য তারা বাণিজ্যিকভাবে বাজার থেকে এসব তথ্য সংগ্রহ করছেন।

২০২৩ সালের পর এই প্রথম কোনো শীর্ষ কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি স্বীকার করলেন। জানা গেছে, মূলত বিভিন্ন ডেটা ব্রোকারদের কাছ থেকে এসব তথ্য কেনা হয়। এই ব্রোকাররা স্মার্টফোনের সাধারণ মোবাইল অ্যাপ ও গেম থেকে ব্যবহারকারীদের অজান্তেই তাদের লোকেশনসহ ব্যক্তিগত বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে থাকে।

এর আগে সাবেক পরিচালক ক্রিস্টোফার রে জানিয়েছিলেন যে, সংস্থাটি আগে তথ্য কিনলেও মাঝে তা সক্রিয় ছিল না। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে ওরেগনের সিনেটর রন ওয়াইডেন যখন প্রশ্ন তোলেন যে ভবিষ্যতে এফবিআই এই তথ্য কেনা বন্ধ করবে কি না, তখন পরিচালক কাশ প্যাটেল সরাসরি কোনো উত্তর দেননি। বরং তিনি জানিয়েছেন, দায়িত্ব পালনের স্বার্থে এফবিআই ‘সব ধরনের বৈধ উপায়’ ব্যবহার করতে পিছপা হবে না।

কাশ প্যাটেল আরও দাবি করেন, তারা যেসব তথ্য কিনছেন তা সংবিধান ও বিদ্যমান আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তার মতে, বাণিজ্যিকভাবে সহজলভ্য এসব তথ্য থেকে গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া সম্ভব হচ্ছে। তবে এই প্রক্রিয়ার কড়া সমালোচনা করেছেন সিনেটর ওয়াইডেন। 

তিনি মনে করেন, এটি মার্কিন সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী (ব্যক্তিগত সুরক্ষার অধিকার) এড়ানোর একটি কৌশল মাত্র। সাধারণত কারো ব্যক্তিগত তথ্য পেতে হলে আদালতের পরোয়ানা বা সার্চ ওয়ারেন্টের প্রয়োজন হয়। কিন্তু আইনি এই দীর্ঘসূত্রতা এড়াতে সরাসরি বাজার থেকে ডেটা কিনে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কৌশলে বিচারিক নজরদারি এড়িয়ে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই তথ্যের মূল উৎস হলো আধুনিক বিজ্ঞাপন প্রযুক্তি, যা ‘রিয়েল-টাইম বিডিং’ নামে পরিচিত। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যবহারকারীর অবস্থান ও রুচি অনুযায়ী বিজ্ঞাপন দেওয়ার ছলে বিপুল পরিমাণ ডেটা সংগ্রহ করা হয়, যা পরবর্তীতে তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি করা হয়।

এফবিআই-এর দাবি অনুযায়ী, বাণিজ্যিকভাবে তথ্য কিনতে পরোয়ানা লাগে না। যদিও বিষয়টি নিয়ে এখনো আদালতের কোনো চূড়ান্ত নির্দেশনা আসেনি। এই সংকট নিরসনে সিনেটর ওয়াইডেন ‘গভর্নমেন্ট সার্ভেইল্যান্স রিফর্ম অ্যাক্ট’ নামে একটি বিল উত্থাপন করেছেন। এই বিল পাস হলে বাজার থেকে ডেটা কেনার ক্ষেত্রেও আদালতের অনুমতি বাধ্যতামূলক হবে।

আরআই/এসএন

মন্তব্য করুন