© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

চিরবিদায় নিলেন ডোরেমনের কিংবদন্তি পরিচালক শিবায়ামা সুতোমু

শেয়ার করুন:
চিরবিদায় নিলেন ডোরেমনের কিংবদন্তি পরিচালক শিবায়ামা সুতোমু

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০১:৩৪ পিএম | ১৯ মার্চ, ২০২৬
বিশ্বজুড়ে অ্যানিমেশনপ্রেমীদের মনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জাপানি অ্যানিমেশন দুনিয়ার এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, ডোরেমন সিরিজের প্রখ্যাত পরিচালক শিবায়ামা সুতোমুর প্রয়াণ যেন একটি যুগের অবসান ঘটাল। দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসের ক্যানসারে ভুগছিলেন তিনি। চলতি মাসের ৬ তারিখে ৮৪ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই কিংবদন্তি নির্মাতা। যদিও তাঁর মৃত্যুসংবাদ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয় কয়েকদিন পর, ১৭ মার্চ।

পরিচালকের শেষ ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে গোপনীয়তার সঙ্গে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে তাঁর স্মৃতিকে ঘিরে ভবিষ্যতে একটি স্মরণসভার আয়োজন করা হতে পারে বলে জানা গেছে। তাঁর প্রয়াণে শুধু জাপান নয়, বিশ্বজুড়ে অ্যানিমেশনপ্রেমীদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক।



১৯৩০-এর দশকে জন্ম নেওয়া শিবায়ামা সুতোমু কর্মজীবন শুরু করেন ষাটের দশকে। অ্যানিমেশন জগতে তাঁর পথচলা শুরু হয় একটি বড় সংস্থার মাধ্যমে, এরপর একে একে তিনি যুক্ত হন একাধিক জনপ্রিয় কাজের সঙ্গে। দ্য গাস্টি ফ্রগ, টেনসাই বাকাবনের মতো সিরিজ তাঁকে এনে দেয় পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা।

পরবর্তীতে নিজের অ্যানিমেশন সংস্থা প্রতিষ্ঠা করে তিনি নতুন এক দিগন্তের সূচনা করেন। ১৯৮৪ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে ডোরেমন সিরিজের প্রধান পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। তাঁর হাত ধরেই নবিতা, সিজুকা আর ডোরেমন হয়ে ওঠে কোটি কোটি দর্শকের শৈশবের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

ডোরেমনের সেই জাদুকরী জগৎ, যেখানে একটি ছোট্ট পকেট থেকে বেরিয়ে আসে অদ্ভুত সব যন্ত্র, মুহূর্তেই সমাধান হয়ে যায় জীবনের নানা সমস্যা এই কল্পনার জগতের নির্মাণে তাঁর অবদান ছিল অনন্য। শুধু ডোরেমনই নয়, আরও বহু অ্যানিমি সিরিজ ও চলচ্চিত্রে তাঁর সৃষ্টিশীলতার ছাপ স্পষ্ট।

দীর্ঘ কর্মজীবনের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি পেয়েছেন মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননা। ২০১২ সালে জাপানের সাংস্কৃতিক সংস্থার পক্ষ থেকে তাঁকে দেওয়া হয় জীবনব্যাপী সম্মাননা পুরস্কার।

তাঁর প্রয়াণে যেন এক পুরো প্রজন্ম হারাল তাদের শৈশবের এক নির্মাতা। নবিতা আর সিজুকার গল্প আজও যেমন বেঁচে আছে, তেমনি বেঁচে থাকবেন এই স্রষ্টাও তাঁর কাজের মধ্য দিয়ে।


পিআর/এসএন

মন্তব্য করুন