টিকটকার রাকিব হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, যেভাবে চলে কিলিং মিশন
ছবি: সংগৃহীত
০৮:১৮ পিএম | ১৯ মার্চ, ২০২৬
রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় টিকটকার ও কলেজ শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম রাকিব (২৫) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
পুলিশ জানিয়েছে, খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজিদের পরিকল্পনায় এবং সরাসরি তার পাঠানো ‘ভাড়াটে খুনি’দের হাতেই প্রাণ হারিয়েছেন রাকিব। মূলত নারীঘটিত বিরোধ ও পরকীয়ার জেরে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম। হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত মূল হোতাসহ এ পর্যন্ত মোট ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা হলেন: শিহাব, জয়, রাফিন, সাগর এবং অস্ত্র জোগানদাতা সালাউদ্দিন ওরফে সাগর।
যেভাবে চলে কিলিং মিশন
ডিসি মাসুদ আলম জানান, রাকিবকে হত্যার জন্য ৩-৪ দিন আগেই খুলনা থেকে ভাড়াটে খুনিরা ঢাকায় আসে। তারা ফকিরাপুল ও সোনারগাঁওসহ রাজধানীর বিভিন্ন হোটেলে অবস্থান করে হত্যার চূড়ান্ত ‘নীলনকশা’ তৈরি করে। যেহেতু রাকিব নিয়মিত শহীদ মিনার এলাকায় টিকটক ভিডিও বানাতেন, তাই ঘাতকরা কয়েক দিন তার গতিবিধি অনুসরণ (রেকি) করে। গত ১৫ মার্চ রাত সোয়া ৯টার দিকে পরিকল্পনা অনুযায়ী ৪ জন সরাসরি আক্রমণে অংশ নেয় এবং বাকিরা ব্যাকআপ হিসেবে চারপাশ ঘিরে রাখে। ঘাতকরা রাকিবকে প্রথমে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে এবং শেষে মাথায় গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়।
তিনি আরও জানান, তদন্তে উঠে এসেছে যে নিহত রাকিবের সঙ্গে খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারি সাজিদের স্ত্রী জান্নাত মুনের টিকটকের সূত্রে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। একে কেন্দ্র করে সাজিদ দীর্ঘদিন ধরে রাকিবকে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। এ ছাড়া রাকিব সাফা নামের এক বিবাহিত নারীকে সম্প্রতি বিয়ে করেছিলেন–যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে ক্ষোভ ছিল। মূলত স্ত্রীর সঙ্গে রাকিবের সম্পর্কের জেরে সাজিদ ঢাকা ও খুলনার অপরাধীদের সমন্বয় করে এই খুনের চুক্তি করেন।
ডিসি মাসুদ বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল থেকে রাফিনকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তী সময়ে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে খুলনা থেকে শিহাব ও জয়, পটুয়াখালী থেকে সাগর এবং গোপালগঞ্জ থেকে সালাউদ্দিনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। অভিযানে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত পিস্তলটিও উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সরাসরি গুলি বর্ষণকারী আলামিনসহ আরও ৭-৮ জন এখনও পলাতক রয়েছে।
নিহত রাকিব বোরহান উদ্দিন কলেজের বিএ দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাবা তরিকুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৈত্রী হলের কর্মচারী। পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রটি অত্যন্ত দুর্ধর্ষ এবং টাকার বিনিময়ে যে কোনো অপরাধ ঘটাতে সক্ষম। পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ইউটি/টিকে