চাঁদপুরের বহু গ্রামে ঈদ আজ, একদিন আগে ঈদ উদযাপনের কারণ কী?
ছবি: সংগৃহীত
০৩:২৭ এএম | ২০ মার্চ, ২০২৬
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা দরবার শরীফকে কেন্দ্র করে জেলার অর্ধশতাধিক গ্রামে আজ শুক্রবার সৌদি আরবসহ আরব বিশ্বের কয়েকটি দেশের সঙ্গে মিল রেখে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন হচ্ছে। দীর্ঘদিনের প্রচলিত ধর্মীয় অনুসরণে এসব এলাকার মানুষ বাংলাদেশে সরকারি ঘোষণার এক দিন আগেই ঈদের নামাজ আদায় করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই প্রথার সূচনা ১৯২৮ সালে। সাদ্রা দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা ইসহাক আরব বিশ্বের চাঁদ দেখার সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও ঈদ পালনের নিয়ম চালু করেন। তাঁর অনুসারীরা মনে করেন, বিশ্বের যে কোনো দেশে চাঁদ দেখা গেলে সেই অনুযায়ী ইসলামি মাস গণনা করা যেতে পারে।
এই অনুসরণে হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা, সমেশপুর, অলীপুর, ভোলাচোঁ, ঝাকনি, সোনাচোঁ, প্রতাপপুর ও সুরঙ্গচাইল, ফরিদগঞ্জ উপজেলার সুরঙ্গচাউল, কাইতাড়া, উভারামপুর, টোরামুন্সিরহাট এবং মতলব উত্তর উপজেলার পাঁচানী, বাহেরচর পাঁচানী, আইটাদি পাঁচানী ও দেওয়ানকান্দিসহ অর্ধশতাধিক গ্রামের মানুষ আজ ঈদ উদযাপন করছেন।
সাদ্রা দরবার শরীফ মাঠে সকাল ৯টায় প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে ইমামতি করবেন আল্লামা জাকারিয়া চৌধুরী আল মাদানী। একই দিনে সাদ্রা হামিদিয়া ফাজিল মাদ্রাসা মাঠে আরেকটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে ইমামতি করবেন আরিফুল্লা চৌধুরী।
সাদ্রা দরবার শরীফের পীর মোহাম্মদ আরিফ চৌধুরী বলেন, ১৯২৮ সাল থেকে তাঁরা মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মিল রেখে রোজা, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা পালন করে আসছেন। শুরুতে অনুসারীর সংখ্যা কম থাকলেও এখন দেশের বিভিন্ন জেলায় এই ধারা অনুসরণ করা হচ্ছে।
বাংলাদেশে সরকারিভাবে ঈদের তারিখ নির্ধারণ করে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি। তবে চাঁদপুরের এসব এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নিজস্ব ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী আলাদা দিনে ঈদ পালনের রীতি চালু রয়েছে।
আইকে/টিকে