© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ঈদ যত ঘনিয়ে আসে, ছেলেকে তত বেশি মনে পড়ে : ববিতা

শেয়ার করুন:
ঈদ যত ঘনিয়ে আসে, ছেলেকে তত বেশি মনে পড়ে : ববিতা

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০২:৫৩ পিএম | ২১ মার্চ, ২০২৬
পর্দার ঝলমলে আলো, অজস্র হাততালি আর আন্তর্জাতিক খ্যাতি সবই যেন ম্লান হয়ে যায় যখন একজন মা তার সন্তানের শূন্যতা অনুভব করেন। ঢালিউডের কিংবদন্তি অভিনেত্রী, সত্যজিৎ রায়ের ‘অশনি সংকেত’-এর সেই অনিন্দ্যসুন্দরী অনঙ্গ বউ ওরফে ফরিদা আক্তার ববিতা আজ জীবনের এমন এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে, যেখানে উৎসবের আনন্দ আর একাকিত্বের বিষাদ মিলেমিশে একাকার। একুশে পদকপ্রাপ্ত এই কালজয়ী শিল্পীর ঈদ এখন আর কেবল উৎসবের নেই, তা হয়ে উঠেছে ফেলে আসা সোনালি অতীত আর বিদেশের মাটিতে থাকা একমাত্র ছেলের জন্য দীর্ঘশ্বাসের এক নাম।

ববিতার ঈদের আনন্দ পূর্ণতা পায় না তার একমাত্র ছেলে অনীকের অনুপস্থিতিতে। অনীক বর্তমানে কানাডায় অবস্থান করছেন। ববিতা আবেগাপ্লুত কণ্ঠে গণমাধ্যমকে জানান, ‘এবার আমরা দুজন দুই জায়গায়। ঈদ যত ঘনিয়ে আসে, ওকে তত বেশি মনে পড়ে।’ একজন মমতাময়ী মা হিসেবে তিনি আজও মিস করেন ছেলের পছন্দের পোলাও, কোরমা আর গরুর মাংস নিজ হাতে রান্না করে খাওয়ানোর সেই মুহূর্তগুলো। ছেলের এই শূন্যতা তাকে ভীষণভাবে আলোড়িত করে।





স্মৃতির পাতা উল্টে ববিতা ফিরে যান সেই হারানো দিনগুলোতে, যখন ঈদের চাঁদ মানেই ছিল দর্জিবাড়িতে নতুন জামার অপেক্ষায় বসে থাকা। সেই লুকিয়ে রাখা নতুন পোশাক আর দাদা-দাদি, বাবা-মামাদের কাছ থেকে পাওয়া সেলামির আনন্দ আজও তার মনে অমলিন। মজার ব্যাপার হলো, বয়সের গণ্ডি পেরিয়েও বড় বোন সুচন্দার কাছ থেকে এখনো সেলামি পান তিনি, যা তাকে ফিরিয়ে দেয় সেই ছোট্ট ববিতার কাছে।

এদিকে হারানো বাবা-মাকে মনে করে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেও ববিতা নিজেকে মানিয়ে নিয়েছেন বাস্তবতার সাথে। ঈদ এখন কাটে সুচন্দা ও চম্পার মতো আপনজনদের সান্নিধ্যে। তিন বোন মিলে স্মৃতিচারণ আর আড্ডায় ঘরোয়া পরিবেশেই খুঁজে নেন উৎসবের আমেজ। সময়ের স্রোতে সবকিছু বদলে গেলেও ববিতার কাছে ঈদের অনুভূতি আজও সেই চিরায়ত ভালোবাসা আর প্রিয়জনদের ঘিরে থাকা এক অনন্ত বন্ধন।

পিআর/এসএন

মন্তব্য করুন