ঈদ আসে ঠিকই, কিন্তু প্রাণবন্ত সেই পরিবেশ নেই: ঐন্দ্রিলা
ছবি: সংগৃহীত
০৪:১৫ পিএম | ২১ মার্চ, ২০২৬
ঈদ মানেই আনন্দ, পরিকারিক মিলনমেলা ও ভালোবাসার উৎসব। কিন্তু যাদের জীবনে বাবা- মা নেই, তাদের কাছে এই উৎসব অনেক সময়ই হয়ে ওঠে আনন্দ আর বিষাদের মিশ্র অনুভূতি। বাবা নায়ক বুলবুল আহমেদকে নিয়ে ঈদের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগে ভাসলেন মেয়ে অভিনেত্রী ও উপস্থাপক ঐন্দ্রিলা আহমেদ।
তিনি দেশের একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমাদের বাসায় ঈদ মানেই ছিল উৎসবের আমেজ। বাবা অভিনেতা বুলবুল আহমেদ ছিলেন খুব আনন্দপ্রিয় মানুষ। মা ডেইজী আহমেদ শোবিজের পরিচিত মুখ ছিলেন। নানা ব্যস্ততা সত্ত্বেও মা-বাবা দুজনই আমাদের খুব আগলে রাখতেন। তারা আজ পৃথিবীতে নেই। ঈদের সময় তাদের ব্যস্ততা, আমাদের জন্য পরিকল্পনা–সবকিছু এখন খুব মিস করি।’

ঈদের দিনের সকালের স্মৃতিচারণ করে ঐন্দ্রিলা বলেন, ‘ঈদের সকালে সবাই মিলে নামাজ, তারপর একসঙ্গে খাওয়া সবকিছু ছিল দারুণ আনন্দের। বাসায় আত্মীয়স্বজনরা আসতেন। বাবার সহকর্মী, নির্মাতারা আসতেন কুশল বিনিময় করতে। বাবা যতদিন বেঁচে ছিলেন এটাই দেখে আসছি। এখন ঈদ আসে ঠিকই, সেই প্রাণবন্ত পরিবেশ আগের মতো আর নেই। চেষ্টা করি পরিবারের বাকি সদস্যদের নিয়ে ভালো সময় কাটাতে। হয় না।’
ঐন্দ্রিলার ভাষ্য, ‘ছোটবেলায় ঈদের আগের রাতটাই ছিল সবচেয়ে আনন্দের। মা নতুন জামাগুলো সাজিয়ে রাখতেন, বাবা এসে দেখে বলতেন–কারটা কেমন হয়েছে। মা হরেক পদের খাবার রান্না করতেন। ঘর ঘ্রাণে ভরে যেত। আমরা সবাই মিলে হাসি-ঠাট্টা করতাম। এখন সেই মুহূর্তগুলো শুধু স্মৃতি হয়ে আছে। কখনও কখনও মনে হয়, সময়টা যদি একটু থেমে যেত! বাবা-মায়ের সেই উপস্থিতিটাই ছিল ঈদের আসল সৌন্দর্য। এখন ঈদের দিনে যখন চারপাশে আনন্দ দেখি, তখন নিজের ভেতরে একটা শূন্যতা কাজ করে। তবে আমি চেষ্টা করি সেই স্মৃতিগুলোকে শক্তি হিসেবে নিতে। মা-বাবা যেভাবে আমাদের একসঙ্গে থাকতে শিখিয়েছেন, সেটাই ধরে রাখার চেষ্টা করি। বাবা সৃষ্টিশীল অনেক কাজ করেছেন। টিভিতে বাবা-মায়ের পুরোনো সিনেমাগুলো দেখি। পরিবারের সঙ্গে বসে গল্প করা, পুরোনো ছবি দেখা–এসবের মধ্যেই যেন তাদের খুঁজে পাই।’
বাবার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাবা আমাকে একটু বেশিই আদর করতেন। আমার বড় ভাই ও বোন–শুভ আর তিলোত্তমার সঙ্গে বয়সের ব্যবধান একটু বেশি। একটু নয়, কারও কারও হিসাবে বয়সের ব্যবধান অনেকটাই। কারণ দুই সন্তান জন্মের ১১ বছর পর মায়ের গর্ভে এসেছিলাম আমি। আমার জন্মের আগে ও পরে পরপর দু’বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন আব্বু। ছিলেন অভিনয় ক্যারিয়ারের শিখরে। তাই মাঝে মাঝে বলতেন, মেয়ে আমার সৌভাগ্য নিয়ে এনেছে। এ জন্য আব্বুর ভালোবাসার পাল্লাও একটু বেশি ঝুঁকে পড়েছিল।
আমি ছিলাম তাঁর আদরের খেলনা এবং একই সঙ্গে তাঁর আম্মিজান। আব্বু বলতেন, ‘তোমার মধ্যে আমি আমার মায়ের ছায়া খুঁজে পাই, তুমি আমার মেয়ে নও, আমার আম্মিজান।’
শেষে ঐন্দ্রিলা বলেন, ‘ঈদের সময় বাবা যখন স্যুটকেস খুলতেন, তখন বাসার সবাই কৌতূহল নিয়ে তাকিয়ে থাকত। অনুমান করার চেষ্টা করত, কার জন্য কী এনেছেন। কারও অনুমান ঠিক না হলেও আমারটা ঠিক মিলে যেত। স্যুটকেস থেকে বেরিয়ে পড়ত দারুণ এক পুতুল। বাবার চোখে চিরকাল আমি শিশুই ছিলাম। এইচএসসি পাস করার পরও তাই আমাকে বার্বিডল কিনে দিয়েছিলেন। বাবার অনেক স্মৃতিই মাঝে মাঝে খুব মনে পড়ে। আনমনা হয়ে যাই।’
পিআর/এসএন