© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

নওরোজে কী বার্তা দিল মোজতবা খামেনি?

শেয়ার করুন:
নওরোজে কী বার্তা দিল মোজতবা খামেনি?

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৫:১৫ পিএম | ২১ মার্চ, ২০২৬
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি পারস্য নববর্ষ উপলক্ষে দেয়া এক লিখিত বার্তায় বলেছেন, দেশের শত্রুরা ‘পরাজিত হচ্ছে’। শুক্রবার (২০ মার্চ) খামেনির এই বার্তায় ইরানের টেলিভিশনে পাঠ করা হয়।

বার্তায় খামেনি নওরোজ উদযাপন করা ইরানি জনগণের দৃঢ়তার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, নতুন বছরটি শুরু হচ্ছে ‘জাতীয় ঐক্য ও জাতীয় নিরাপত্তার মধ্যে প্রতিরোধমূলক অর্থনীতির বছর’ হিসেবে।
 
তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমাদের দেশবাসীর মধ্যে যে বিশেষ ঐক্য তৈরি হয়েছে, ধর্মীয়, চিন্তাধারা, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও, তার কারণে শত্রু পরাজিত হয়েছে।’
 
যুদ্ধ শুরুর (২৮ ফেব্রুয়ারি) দিন বাবা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার এক সপ্তাহ পর ছেলে মোজতবা খামেনি সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হন। তবে এরপর থেকে এখন পর্যন্ত তাকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের সংবিধান এমনভাবেই তৈরি করা হয়েছে যাতে ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি হলেও রাষ্ট্র ব্যবস্থা টিকে থাকতে পারে।
  
বার্তার মাধ্যমে যুদ্ধের দিক নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন খামেনি। নওরোজের বার্তায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ভেবেছিল, এক-দুই দিনের হামলার পর ইরানের জনগণ সরকারকে উৎখাত করবে—কিন্তু এটা ছিল তাদের ‘মারাত্মক ভুল হিসাব’।
 
তিনি বলেন, ‘এই যুদ্ধ শুরু হয়েছিল এই ভুল ধারণা থেকে যে, যদি সরকারের শীর্ষ নেতৃত্ব ও কিছু প্রভাবশালী সামরিক ব্যক্তিত্ব শহীদ হন, তাহলে জনগণের মধ্যে ভয় ও হতাশা তৈরি হবে… আর এর মাধ্যমে ইরানকে নিয়ন্ত্রণ ও পরে ভেঙে ফেলার স্বপ্ন পূরণ হবে। কিন্তু তার বদলে শত্রুদের মধ্যেই বিভাজন তৈরি হয়েছে।’
 
যুদ্ধের মধ্যে ইরানিদের নওরোজ উৎসব
 
রাজধানী তেহরান সহ বিভিন্ন শহরে ঘন ঘন বেজে উঠছে সাইরেন। শত্রু বিমান দেখলেই দেশবাসীকে সতর্ক করছে সে দেশের বিপ্লবী সেনা বাহিনী। দেশটির নাগরিকদের চরম আতঙ্কে দিন কাটছে।
 
তবে এরই মধ্যে উৎসবেও শামিল হন মানুষ। গত শুক্রবার (২০ মার্চ) ছিল ইরানের ক্যালেন্ডারের প্রথম দিন। স্থানীয় ভাষায় নওরোজ বা নববর্ষ। ইরানি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বসন্তের প্রথম দিনটিতে নববর্ষের সূচনা হয়ে থাকে।
 
এই দিনকে সামনে রেখে মানুষ নতুন পোশাক এবং অন্যান্য সামগ্রী ও নানা ধরনের মিষ্টি সহ বৈচিত্র্যময় খাদ্য সামগ্রী কিনে থাকে। এর পাশাপাশি চলে ঘরদোর পরিষ্কার করা। ইরানের তিন হাজার বছরের পুরনো এই উৎসবের সময় বহু বিদেশি দেশটিতে যেতেন। এবার সরকারি উদ্যোগে উৎসবের কোনো আয়োজন হয়নি। যেটুকু যা হচ্ছে ব্যক্তিগত উদ্যোগে।
  
তাই যেকোনো সময় ইজরাইলি ক্ষেপণাস্ত্র এসে আঘাত করতে পারে জেনেও শুক্রবার সকাল থেকে তেহরানসহ সব শহরেই হাটবাজার জমজমাট। হাজার হাজার মানুষ বাজারে জড়ো হন হরমোজ উৎসব পালনের জন্য। চুটিয়ে চলে কেনাকাটা।
 
তবে বিষাদময় ভিন্ন চিত্রও আছে। ইজরাইল ও আমেরিকার হামলায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজধানীর তেহরান। শহরের উত্তর-পূর্ব প্রান্তে ক্ষয়ক্ষতি বেশি। সেখানে অসংখ্য বাড়িঘর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। উদ্ধার কাজ শেষ হওয়ার পর এখন সেখানে কবরের নৈঃশব্দ বিরাজ করছে।
 
তেহরানের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট প্রকাশ করেছে বিবিসি ও সিএনএন। ইরানের রাজধানীর বহু মানুষ বিবিসিকে বলেছে, যুদ্ধ আমাদের কাছে নতুন নয়। মৃত্যুর থেকেও দেশের ঐতিহ্য সংস্কৃতি অনেক বড়। এই আতঙ্কের পরিবেশেও তারা বছরের নতুন দিনটিকে বরণ করে নিতে চান।
  
তেহরানের উত্তর-পূর্বের দামাভান্দের পঞ্চাশোর্ধ নারী মিনা বলেন, অন্যান্য বছর এই সময়ে আমাদের ব্যস্ততার শেষ থাকে না। কখন যেন সময় ফুরিয়ে যায়। এখন প্রতিটি ঘণ্টাকে দিন মনে হচ্ছে। তবু এই আতঙ্কের মধ্যেই আমরা যথাসম্ভব উৎসব পালন করছি। ঘরবাড়ি পরিষ্কার করেছি। যার যা সামর্থ্য কেনাকাটা করছি। ‌

এমআই/টিকে

মন্তব্য করুন