© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ইরানি তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল, এশিয়ার বাজারে বাড়তে পারে তেল সরবরাহ

শেয়ার করুন:
ইরানি তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল, এশিয়ার বাজারে বাড়তে পারে তেল সরবরাহ

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৬:০৬ পিএম | ২১ মার্চ, ২০২৬
ট্রাম্প প্রশাসন সমুদ্রপথে ইরানি তেল কেনার ওপর ৩০ দিনের জন্য নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, এই পদক্ষেপের ফলে প্রায় ১৪০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বৈশ্বিক বাজারে আসতে পারে। তবে এই তেল যুক্তরাষ্ট্রে আসবে কি না তা এখনও স্পষ্ট নয়। খবর রয়টার্স

বেসেন্ট বলেন, মূলত আমরা ইরানের তেলই ব্যবহার করব তেহরানের বিরুদ্ধে, যাতে দাম কম রাখা যায়। একই সঙ্গে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চালিয়ে যাব। তিনি আরও বলেন, তেল বিক্রি থেকে ইরান সহজে অর্থ পাবে না।

নিষেধাজ্ঞা শিথিলের আওতায় কিউবা, উত্তর কোরিয়া ও ক্রিমিয়ার মতো দেশগুলো থাকছে না। এটি ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

এশিয়ার বাজারে সরবরাহের প্রভাব

এনার্জি সেক্রেটারি ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, সরবরাহ তিন থেকে চার দিনের মধ্যে এশিয়ায় পৌঁছাতে পারে এবং পরবর্তী দেড় মাসে পরিশোধনের মাধ্যমে বাজারে আসবে। চীনের স্বাধীন রিফাইনারি প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন ধরে কম দামে ইরানি তেল কিনে আসছে। এর আগে ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, ইতালি, গ্রিস, তাইওয়ান ও তুরস্কও ইরানি তেলের বড় ক্রেতা ছিল।

ভারতের তিনটি রিফাইনারি সূত্র জানিয়েছে, তারা ইরানি তেল কিনতে প্রস্তুত। তবে সরকার ও ওয়াশিংটন থেকে স্পষ্ট নির্দেশনা ও পেমেন্ট পদ্ধতির প্রতীক্ষা চলছে। এশিয়ার অন্যান্য বড় আমদানিকারক রিফাইনারিগুলোও আইনগত ও কারিগরি দিক যাচাই করছে।

বাজারে তেলের পরিমাণ

জ্বালানি বাজার বিশ্লেষক সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সমুদ্রে প্রায় ১৭ কোটি ব্যারেল ইরানি তেল রয়েছে। অন্যদিকে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এনার্জি আসপেক্টস ১৯ মার্চ এই পরিমাণ ১৩-১৪ কোটি ব্যারেল বলে প্রাক্কলন করেছিল।

এশিয়ার দেশগুলো তাদের মোট চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ তেলের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু চলতি মাসে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হওয়ায় শোধনাগারগুলো উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়েছে।

শোধনাগার ও কেনাকাটায় জটিলতা

তেলের একটি বড় অংশ পুরোনো ও অনিবন্ধিত জাহাজে থাকায় এবং ব্যাংকিং ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় লাগায় তেল কেনার ক্ষেত্রে কিছু জটিলতা তৈরি হচ্ছে। এছাড়া যারা সরাসরি ন্যাশনাল ইরানি অয়েল কোম্পানি (এনআইওসি) থেকে তেল কিনতেন, তাদের চুক্তির কিছু বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

ব্রেট এরিকসন, অবসিডিয়ান রিস্ক অ্যাডভাইজরসের বিশ্লেষক বলেন, যদি এমন পর্যায়ে পৌঁছাই যে যাদের সঙ্গে যুদ্ধ চলছে, তাদের ওপরই নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে হচ্ছে, তাহলে বোঝা যায় বিকল্প প্রায় শেষ হয়ে এসেছে।

ফেব্রুয়ারি ২৮ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রভাবে তেলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে গেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালী না খোলা পর্যন্ত তেলের দামে বড় প্রভাব পড়বে না।

এমআই/টিকে

মন্তব্য করুন