© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

শেরপুর-৩ / ফিতরার নামে টাকা বিতরণের সময় দুই জামায়াতকর্মী আটক, মুচলেকায় মুক্তি

শেয়ার করুন:
ফিতরার নামে টাকা বিতরণের সময় দুই জামায়াতকর্মী আটক, মুচলেকায় মুক্তি

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১০:৩১ পিএম | ২১ মার্চ, ২০২৬
শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে ভোটারদের মাঝে ফিতরার নামে টাকা বিতরণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জামায়াতের দুই কর্মীকে আটক করেন স্থানীয়রা।

শনিবার (২১ মার্চ) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঝিনাইগাতী উপজেলার হাতিবান্ধা ইউনিয়নের তেঁতুলতলা গ্রামের ঘাঘরা-দরগারপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আটককৃতরা হলেন, ঝিনাইগাতী উপজেলার ঘাঘড়া মন্ডলপাড়ার আব্দুল হালিমের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক ও একই এলাকার এসএ মোতালেবের ছেলে মুরাদ মিয়া বাবু। পরে খবর পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তদন্ত শেষে ওই দুই কর্মীকে মুচলেকা নিয়ে স্থানীয় জামায়াত নেতা আব্দুর রহিমের জিম্মায় ছেড়ে দেন।

স্থানীয়রা জানান, স্থগিত হওয়া এই আসনে তফসিল ঘোষণার পর যাচাই-বাছাই শেষে প্রতীক বরাদ্দের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে নেতাকর্মীরা বিভিন্ন কৌশলে ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন। ঈদের দিন সন্ধ্যায় ফিতরার নামে ঝিনাইগাতীর ঘাঘরা-দরগারপাড় এলাকায় ভোটারদের মাঝে জনপ্রতি ৩শ টাকা করে বিতরণ করা হচ্ছিল। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয়রা টাকা দেওয়ার সময় দুইজনকে আটক করেন। পরে খবর পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তদন্ত শেষে ওই দুই কর্মীকে জামায়াত নেতাদের জিম্মায় ছেড়ে দেন।

ঝিনাইগাতী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মমতাজ আলী বলেন, ‘ফিতরার টাকা ঈদের জামাতের আগেই পরিশোধ করা হয়-এটাই প্রচলিত নিয়ম। কিন্তু ঈদের দিন রাতে টাকা দিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ চাই, টাকার প্রভাব নয়।’

হাতিবান্ধা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ বলেন, ‘জামায়াতের লোকজন টাকা বিতরণ করছে; এমন খবর পেয়ে এসে ঘটনার সত্যতা পাই। পরে তাদের আটক করে প্রশাসনকে খবর দেওয়া হয়। প্রশাসন এসে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। এই নির্বাচনে টাকার খেলা সুষ্ঠু ভোটের বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।’

অভিযোগের বিষয়ে জামায়াতের প্রার্থী মাসুদুর রহমান বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না, তাই মন্তব্য করতে পারছি না।’ তবে, জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাফিজুর রহমান দাবি করেন, ‘এটি ফিতরার টাকা ছিল যা ইতোমধ্যে বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে।’

শেরপুর-৩ আসনে বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল বলেন, ‘ঘটনাটি দুঃখজনক এবং নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন। যে-ই আইন ভঙ্গ করবে, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। নির্বাচনে অবৈধ টাকার ব্যবহার বন্ধ করা জরুরি।’

ঝিনাইগাতী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অনিন্দিতা রানী ভৌমিক বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের সাথে কথা বলেছি। অভিযুক্তরা অভিযোগ অস্বীকার করে ফিতরার টাকা দেওয়ার কথা জানিয়েছে। দোষ স্বীকার না করায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সুযোগ হয়নি। বিষয়টি উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচনী অনুসন্ধান টিমকে লিখিতভাবে জানানো হবে। তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই নির্বাচন কমিশন পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।’

শেরপুর রিটানিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। আটককৃতদের আপতত স্থানীয় এক জামায়াত নেতার জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এমআই/টিকে

মন্তব্য করুন