যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে গোয়েন্দা তথ্য দেয়া বন্ধ করলে, রাশিয়াও ইরানকে বন্ধ করবে: পুতিন
ছবি: সংগৃহীত
০৫:৪৪ এএম | ২২ মার্চ, ২০২৬
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন প্রস্তাব দিয়েছেন—যুক্তরাষ্ট্র যদি ইউক্রেনের সঙ্গে সব গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান বন্ধ করে, তাহলে রাশিয়াও ইরানের সঙ্গে তা বন্ধ করবে। শুক্রবার (২০ মার্চ) সংবাদমাধ্যম পলিটিকো ইউরোপের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পলিটিকো ইউরোপ জানায়, পুতিনের বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ গত সপ্তাহে ফ্লোরিডার মায়ামিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে বৈঠকে এই প্রস্তাব দেন।
ট্রাম্প প্রশাসন প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করলেও এতে ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, পুতিন ন্যাটো জোটের ভেতরে বিভাজন তৈরি করার চেষ্টা করছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক কর্মকর্তা এই প্রস্তাবকে ‘অত্যন্ত অযৌক্তিক’ বলে মন্তব্য করেছেন।
২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। কিয়েভের প্রতিরোধের মধ্যদিয়ে যা রক্তক্ষয়ী সংঘাতে রূপ নেয়। চলতি বছর এই সংঘাত পঞ্চম বছরে গড়িয়েছে। সংঘাতে শুরু থেকেই অস্ত্র, গোলাবারুদ আর অর্থ দিয়ে কিয়েভের সহায়তা দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে রাশিয়াকে শাহেদ ১৩৬ ড্রোনের মতো সামরিক সরঞ্জাম দিয়ে সহায়তা দিচ্ছে ইরান।
ইউক্রেন সংঘাতের মধ্যেই গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে সামরিক আগ্রাসন শুরু করে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র। এই হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানে বিরামহীন বিমান হামলা চালাচ্ছে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র। এতে এখন পর্যন্ত ১৪ শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে, যার মধ্যে তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনিসহ শীর্ষ নেতারাও রয়েছেন।
জবাবে ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় এবং কার্যত হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়। যা তিন সপ্তাহ পর এখনও অব্যাহত রয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে সাধারণত প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন হয়, যা বৈশ্বিক এলএনজি বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ। এদিকে ইরান যুদ্ধে যোগ দেয়ায় ট্রাম্প ট্রান্সআটলান্টিক সামরিক জোট তথা ন্যাটোকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া এটা ‘কাগুজে বাঘে’ পরিণত হবে। তিনি অভিযোগ করেন, মিত্র দেশগুলো ইরানকে ঠেকাতে তার উদ্যোগে সহযোগিতা করতে চাইছে না এবং এখন হরমুজ প্রণালী খুলে দেয়ার ক্ষেত্রেও সাহায্য করছে না।
তিনি বলেন, ‘ইরানকে থামাতে তারা লড়াইয়ে যোগ দিতে চায়নি। এখন যুদ্ধ প্রায় জিতে যাওয়ার পর তারা উচ্চ তেলের দামের অভিযোগ করছে। কিন্তু হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে সাহায্য করতে চায় না—যা খুবই সহজ সামরিক পদক্ষেপ এবং তেলের দাম বাড়ার মূল কারণ।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটা তাদের জন্য খুব সহজ, ঝুঁকিও কম। তারা কাপুরুষ—আমরা এটা মনে রাখব।’
ইউটি/টিএ