একটানা ২৪ ঘণ্টা শুটিং করেছিলেন ইমরান হাশমি : মোহিত সুরি
ছবি: সংগৃহীত
১২:৪৩ পিএম | ২২ মার্চ, ২০২৬
সম্প্রতি দীপিকা পাডুকোনের মতো বড় তারকাদের নির্দিষ্ট সময়সূচির বাইরে কাজ করতে অনীহা জানানো নিয়ে বলিউডে ‘আট ঘণ্টার শিফট’ বিতর্ক তুঙ্গে। এই ইস্যুতে এবার মুখ খুলেছেন ‘আশিকি ২’ ও ‘সাইয়ারা’ খ্যাত পরিচালক মোহিত সুরি। তার মতে, এই আলোচনাকে শুধু অভিনেতাদের ‘বিউটি স্লিপ’ বা ইগোর লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ না রেখে ইউনিটের সাধারণ কর্মীদের মানবিক দিক থেকে দেখা উচিত।
ভ্যারাইটি ইন্ডিয়ার সঙ্গে আলাপকালে মোহিত সুরি জানান, পরিস্থিতির প্রয়োজনে তিনি অভিনেতাদের দিয়ে টানা ২৪ ঘণ্টা কাজ করিয়েছেন।
উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, “যখন আমরা ‘আওয়ারাপান’-এর শুটিং করছিলাম, তখন একটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল লোকেশন আমরা মাত্র ২৪ ঘণ্টার জন্য পেয়েছিলাম। অভিনেতা ইমরান হাশমি তখন আমার সঙ্গে টানা ২৪ ঘণ্টা শুটিং করেছিলেন।”

মোহিত সুরি মনে করেন, কাজের সময়ের এই বিতর্কটি এখন অতিমাত্রায় ‘অভিনেতা-কেন্দ্রিক’ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, যদি একটি ইউনিট ১২ ঘণ্টার শিফটে কাজ করে, মালামাল লোডিং-আনলোডিং মিলিয়ে তাদের আসলে ১৪-১৫ ঘণ্টা কাজ করতে হয়।
ইউনিটের ড্রাইভাররা যদি পর্যাপ্ত না ঘুমিয়ে গাড়ি চালান, তবে তা বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
সহকারী পরিচালক হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতার কথা টেনে তিনি বলেন, শুটিং শেষে যখন অভিনেতারা চলে যান, তখন লাইটম্যান বা ড্রেস দাদাদের বৃষ্টির মধ্যেও কাজ গুছিয়ে নিতে হয়। তাদের পরিশ্রমের কথা কেউ ভাবে না। তিনি বলেন, আমরা শুধু অভিনেতাদের ঘুমের দিকে মনোযোগ দিচ্ছি।
কিন্তু আলোচনাটি হওয়া উচিত সেই লাইটম্যান বা স্পটবয়কে নিয়ে, যারা সবার শেষে কাজ শেষ করে বাড়ি ফেরে।
সুরি স্পষ্ট জানান, যদি কোনো অভিনেতা ৮ ঘণ্টার মধ্যে কাজ শেষ করার দাবি তোলেন এবং তার ফলে পুরো ইউনিট দ্রুত ছুটি পায়, তবে তাতে কোনো সমস্যা নেই। একে ‘অহং’ বা ‘ইগো’র লড়াই না বানিয়ে সবার জন্য একটি সুস্থ কর্মপরিবেশ তৈরির সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত।
উল্লেখ্য, মোহিত সুরি বর্তমানে তার পরবর্তী ছবির চিত্রনাট্য নিয়ে ব্যস্ত আছেন। তার সর্বশেষ ছবি ‘সাইয়ারা’র মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয়েছে আহান পান্ডে ও অনীত পাড্ডার।
সূত্র : ভ্যারাইটি ইন্ডিয়া
পিআর/এসএন