© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

শেখ হাসিনা ৩২ লাখ কোটি টাকা নিয়ে গেছে : চিফ হুইপ

শেয়ার করুন:
শেখ হাসিনা ৩২ লাখ কোটি টাকা নিয়ে গেছে : চিফ হুইপ

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৮:১৯ পিএম | ২২ মার্চ, ২০২৬
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম মণি বলেছেন, নখের কালি শুকানোর আগেই ফ্যামিলি কার্ডের উদ্বোধন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, অনেকে বলেছেন, যেখানে সরকার ১০ টাকা কেজির চাল দিতে পারেনি, সেখানে বর্তমান সরকার কীভাবে ফ্যামিলি কার্ডের জন্য হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করবে। তাদের জন্য উত্তর হলো- ৩২ লাখ কোটি টাকা বাংলাদেশ থেকে চুরি করে শেখ হাসিনা নিয়ে গেছে। বাংলাদেশের সাতটি বাজেটের সমান টাকা লুটপাট হয়েছে। আমাদের সরকার এ লুটপাট করবে না, কাজেই শুধু ফ্যামিলি কার্ড নয় আরও অনেক কিছুই আমরা করব ইনশাআল্লাহ।

রোববার (২২ মার্চ) সকাল ১১টার দিকে বরগুনা সদর উপজেলার ক্রোক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত ক্রোক খাল ও শাখা খালের ৪ কিলোমিটার পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

এ সময় বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. অলিউল্লাহ, জেলা প্রশাসক তাছলিমা আক্তার, পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল হান্নান প্রধানসহ জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বিভিন্ন নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মণি বলেন, বাংলাদেশে গত ১৭ বছর আমাদের নেতাকর্মীরা জেল, জুলুম এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এই এলাকার যারা অন্যায়ের প্রতিবাদ করতেন, যারা একটু ভালো কাজ করার চেষ্টা করতেন, তারাই জেলে গিয়েছেন। তাদেরকে পালিয়ে থাকতে হয়েছে জঙ্গল এবং ধান ক্ষেতে। কিন্তু যারা ইয়াবা ব্যবসা করছেন, তারা ভালো আছেন। তাদের অবস্থা এখানে ভালো ছিল, কিন্ত রাস্তা হয়নি। ইয়াবা ব্যবসায়ীদের জন্য দড়জা খোলা ছিল। কিন্তু যারা রাস্তা, খাল এবং উন্নয়ন চাইতে গিয়েছেন, তাদের জন্য দড়জা বন্ধ ছিল। বেশি চাইতে গেলে জেলও খাটতে হত, এটাই ছিল এ এলাকার মূল কার্যক্রম। 

আমাদের নেতা তারেক সাহেব, যখন খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তখন গ্রাম-গঞ্জে ঘুরে ঘুরে  প্রতিনিধি সম্মেলন করেছেন। এই দেশের গণমানুষের সমস্যা দেখার চেষ্টা করেছেন। গত ১৭টি বছর নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে তিনি তার ভাইকে হারিয়েছেন, তাকে দেখতে পাননি এবং তার মাকেও হারিয়েছেন। তবে তিনি দমে যানননি। মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছেন, গরীব মানুষের পাশে থাকার জন্য। আর এ কারণেই সরকার গঠনের মাত্র ১ মাস ৫ দিনে তিনি ইতোমধ্যে ৫২ দফা কার্যক্রম বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে খাল খনন কর্মসূচি। 

দেশের বর্তমান অবস্থার বিষয়ে তিনি বলেন, আমার ৭২ বছর বয়সে রমজান মাসে জিনিসপত্রের দাম বাড়েনি তা কখনও দেখিনি। কিন্তু এই প্রথম রমজান মাসে জিনিসপত্রের দাম বাড়েনি।

এই প্রথমবার ঈদ যাত্রায় কোনো ভোগান্তি এবং কষ্ট ছাড়া মানুষ বাড়িতে গিয়েছেন। এ কাজই তারেক সাহেব করেছেন। এছাড়াও হাইওয়েতে তিনি চাঁদাবাজি বন্ধ করেছেন। যেহেতু আমরা চুরি করব না, তাহলে প্রচুর টাকা দিয়ে কি করব? আপনারা ট্যাক্স দিবেন, খাজনা দিবেন, আমাদের প্রচুর টাকা সঞ্চয় হবে। সেই টাকা তারেক রহমানের হাত ধরে বাংলাদেশের প্রত্যেক জায়গায় উন্নয়নের কাজ হবে। ফ্যামিলি কার্ড ইতোমধ্যে আমরা উদ্বোধন করেছি এবং তা ভুয়া নয় বাস্তব। পর্যায়ক্রমে অল্প সময়ের মধ্যেই যা সমগ্র বাংলাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। 

অনুষ্ঠানের বক্তব্যে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বিষয়ে তিনি বলেন, তারেক সাহেব বলেছেন, আমরা খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করব। তিনি কিছুদিন আগে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। তারই ফলশ্রুতিতে আমি বরগুনায় খাল খনন কাজের উদ্বোধন করেছি। এছাড়াও তিনি ইমাম মোয়াজ্জেমদের টাকা দেওয়ার কথা বলেছেন। বাংলাদেশে স্বাধীনতার পর কখনও সরকারিভাবে কোনো ইমাম মোয়াজ্জেমকে টাকা দেওয়া হয়নি। এই প্রথম ইমাম মোয়াজ্জেমসহ মন্দির, গির্জা এবং প্যাগোডার পুরোহিতদেরকে টাকা দেওয়া হচ্ছে।

এরই ধারাবাহিকতায় কিছুদিন আগে আমরা প্রায় ৯ হাজার ইমাম মোয়াজ্জেমদের টাকা দিয়েছি। পর্যায়ক্রমে দেশের সকলেই এ টাকা পাবেন। তারেক সাহেব বলেছেন, একজন ইমাম, মোয়াজ্জেম অথবা খতিব জেলা উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যে কমিটি আছে, সেখানেও সম্পৃক্ত থাকবেন। এবং তাদেরকে রাষ্ট্রীয়ভাবেও সম্মানিত করা হবে। 

চিপ হুইপ আরও বলেন, তারেক সাহেব সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, এটি জনগণের সংসদ। এ কারণে প্রথমেই কৃষকদের ১০ হাজার টাকার কৃষি ঋণ মওকুব করা হয়েছে। যার ফলে বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক মানুষ উপকৃত হয়েছে। তারেক রহমান ট্রাফিক সিগনাল না ভেঙে অফিসে যান। কারণ ডিসিসহ সকল সরকারি কর্মকর্তারা যাতে ৯ টার মধ্যেই অফিসে যায়।

এটিই হচ্ছে সুশাসনের প্রথম ধাপ, যা তিনিই শুরু করেছেন। এছাড়াও তিনি বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালসহ স্কুলে লটারি বন্ধ করে পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তির নির্দেশ দিয়েছেন। দেশের গরীব মানুষ কামার, কুমার, তাঁতী, মজুর এবং জেলেসহ যারা রয়েছেন, তারা কিভাবে স্বাবলম্বী হবেন, কি করে কিভাবে বেঁচে থাকবেন, সে কার্যক্রম বাস্তবায়নেই তারেক রহমান দিনরাত কাজ করছেন। 

জাতীয় সংসদের বিষয়ে চিফ হুইপ বলেন, আমাদের সংসদ হবে জনগণের সংসদ। আমরা ২৫ জনকে দাওয়াত করব। তারা ভিআইপি গ্যালারিতে বসে সংসদ দেখবেন। লুঙ্গি পড়ে যাবেন, হুজুর, কুলি মজুরসহ অটোরিকশাচালক তাদেরকে আমরা সংসদে বসাব। তাদের সংসদে তাদের এমপিরা কি করে, তা তারা দেখবেন। ইনশাআল্লাহ আমাদের নেতার নির্দেশে এই প্রথম এ ব্যবস্থা চালু হবে। আমরা চাই, বাংলাদেশকে স্বাবলম্বী ও গনতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করতে।

এমআই/টিকে

মন্তব্য করুন